বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বই দেননি দেশের মানুষকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রের দীক্ষা দিয়েছেন। কাজেই যারা বলতে চায় কোনো একক ব্যক্তির নেতৃত্বে স্বাধীনতা আসেনি তাদের বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে পাকিস্তানের ইয়াহিয়া খানের বক্তব্যটা অন্তত দেখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনা।
পাকিস্তানের দোসররাই ১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল এবং পরবর্তী সরকারগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার চক্রান্ত বাস্তবায়ন করেছিল বলে জানান তিনি।
বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে তার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছিল বলে পাকিস্তানি সেনাশাসক ইয়াহিয়া খানের আক্রোশ ছিল একমাত্র বঙ্গবন্ধুর প্রতি। তাই পাকিস্তানের জেলে বন্দি শেখ মুজিবকে ফাঁসিতে ঝোঁলাতে চেয়েছিল ইয়াহিয়া বলে জানান শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে বলেন, ‘দেশের এপ্রান্তে-ওপ্রান্তে ঘুরে জেল-জুলুম সহ্য করে বঙ্গবন্ধু আজীবন সাংগঠনিক ভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছেন। আমার মা সবসময় বাবার পাশে ছিলেন। বাবা মন্ত্রী থাকাকালীন করাচি গেলেও মা একবারও যাননি। কারণ মা বাবার মনের কথা জানতেন। জানতেন শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বাংলাদেশের মানুষের জন্য স্বাধীনতা চান।’
বাংলাদেশের ইতিহাসের কালো অধ্যায় ’৭৫ এর পরবর্তী সরকারগুলোর খুনি পোষার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ইনডেমনিটি জারি করে এতো বড় কলঙ্কজনক হত্যার বিচার রুদ্ধ করা হয়। আমরা দুই বোন বিদেশে রিফিউজির জীবন কাটাতে বাধ্য হয়েছিলাম। ’৭৬ সালে সুইডেনে থাকাকালে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদে সরব হয় রেহানা। এরপর লন্ডনে থাকা রেহানার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলেও জিয়া পাসপোর্ট নবায়ন করতে দেয়নি। বিদেশের মাটিতেই আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যার তদন্তে আন্তর্জাতিক মানের তদন্তের উদ্যোগ নিই। প্রবাসীরা আমাদের পাশে দাঁড়ান জাতীয় চার নেতার দুই জনের ছেলে আমাদের সহায়তা করেন। তবুও তদন্ত করতে এদেশে আসতে পারেননি বিখ্যাত ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়ামস। কারণ তাকে ভিসা দেয়নি জিয়া।’
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে জিয়ার সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন,‘ জিয়া এই হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত না হলে এসব করতো না। ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন এবং ’৭৫ এর খুনিদের পুরস্কৃত করেছে এই জিয়া। এমনকি বহু বছর পর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায়ের দিন দেশজুড়ে হরতাল ডেকেছিলো জিয়ার দল বিএনপি।’
এমনকি বর্তমান সংসদে বিরোধীদল জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতা এরশাদেরও ঘনিষ্ঠতা ছিলো বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে বলে জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘খুনি শাহরিয়ার রশিদ-বজলুল হুদাদের দিয়ে ফ্রিডম পার্টি গঠন করার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিলেন তৎকালীন জেনারেল এরশাদ।’
বাংলাদেশের স্বাধীনতার নায়ককে হত্যার পর ষড়যন্ত্র থামেনি তাই যখনই দেশ নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মতো অবস্থায় যায় তখনি ’৭১, ’৭৫ এর অপশক্তি তৎপর হয় বলে মনে করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘যারা জাতির পিতা এবং এই পরিবারের নিরীহ নারী-শিশুদের হত্যা করেছিল জাতি তাদের ঘৃণা করে। তবুও দেশের তথাকথিত সুশীল এবং পরাজিত শক্তির দোসরা বার বার নিজেদের পছন্দের শক্তিকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করে।’
যতদিন বেঁচে আছেন ততোদিন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে সোনার বাংলা গড়তে দেশের গরীব মানুষের জন্য কাজ করবেন জানিয়ে কান্নাজড়িত গলায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাবার অসমাপ্ত কাজ শেষ করে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নাই। অন্তত মৃত্যুর পর যদি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা হয় তাহলে যেনো বলতে পারি যে আপনার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি।’








