কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এম.পি. বলেছেন: বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্র ছিল বাংলাদেশকে থামিয়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের শাস্তি দেয়ার জন্য এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের জন্য সৃষ্টিকর্তা বঙ্গবন্ধুর কন্যাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন।
মঙ্গলবার বিকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪ তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন: বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় ও সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। এশীয়-প্যাসিফিক দেশগুলোর মধ্যে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে এক নম্বরে থাকা ভিয়েতনামের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২০২৩ সালে ১০ ভাগেরও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন: বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন যে, পাকিস্তানের শাসকদের মাধ্যমে বাঙালির অধিকার রক্ষা হবে না। তাই বঙ্গবন্ধু কখনোই এ অঞ্চলকে পূর্ব পাকিস্তান নামে অভিহিত করতে চাননি। বরং তিনি এই ভূখণ্ডকে বঙ্গদেশ, পূর্ববঙ্গ, বাংলাদেশ বলতে স্বস্তিবোধ করেছেন। তিনি স্বাধীনতার সেতু হিসেবে ৬ দফা পেশ করেছিলেন। এই ৬ দফার সেতু দিয়েই স্বাধীনতার পথে বাংলাদেশ এগিয়েছে। বঙ্গবন্ধু এদেশে জন্মেছিলেন বলেই বাংলাদেশ নামে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন: বঙ্গবন্ধু শুধু জাতির পিতা নন, তার নাম বাঙালির হৃদয়ে প্রতিনিয়ত অনুরণিত হয়।
উপাচার্য বলেন: দেশপ্রেমিক বাঙালির পক্ষে জাতির পিতাকে হত্যা করা সম্ভব ছিল না। আমাদের মধ্যে যারা দেশ ও দশের শত্রু ছিলো, তারাই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. অজিত কুমার মজুমদার, অফিসার সমিতির সভাপতি আবু হাসান, কর্মচারি সমিতির সভাপতি মনির হোসেন ভূইয়া, কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি শরীফ মিয়া, ছাত্রলীগ জাবি শাখার সভাপতি জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন, প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক।







