নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক এর উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের নির্মাণ কাজ। কাজের ধীরগতিতে হতাশ ৬ হাজার ফ্ল্যাট কেনা মানুষ। অনেকে কিস্তির টাকা দেয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন। দুই দফা তাগাদা দিয়েও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাচ্ছে না রাজউক।
রাজউক সূত্র জানিয়েছে, এরইমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর করা হয়েছে। তবে প্রকল্প খরচ বেড়ে যাওয়ায় ফ্ল্যাট গ্রহীতাদের বাড়তি টাকা দিতে হবে।
উত্তরা মডেল টাউনের ১৮ নম্বর সেক্টরে গিয়ে দেখা যায়, রাজউক বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে গণপূর্ত বিভাগকে যে ৩৯টি ভবন নির্মাণের দায়িত্ব দিয়েছে তার কাজ চলছে। কিন্তু শ্রমিক-কর্মচারিরাই বলেছেন, কাজের গতি খুব কম।
উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের পরিচালক এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস অবশ্য দাবি করেছেন, গণপূর্ত বিভাগের ৩৯টি ভবনের মধ্যে ১০টির কাজ ২৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকিগুলোর দরপত্র আহ্বানের কাজও চলছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোট ৭৯টি ‘এ’ টাইপ ভবনের মধ্যে রাজউক যে ৪০টি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার মধ্যে চলমান রয়েছে ছয়টি। আর দরপত্র প্রক্রিয়ায় রয়েছে বাকিগুলো।
রাজউক উত্তরা তৃতীয় পর্ব আবাসিক এলাকার ১৮ নম্বর সেক্টরে ২শ ২০ একর জমিতে তিন ক্যাটাগরিতে ২০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। ২০১২ সালে ‘এ’ ক্যাটাগরির ৬ হাজার ৬শ ৬৬টি ফ্ল্যাট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। ফ্ল্যাটগুলোর প্রতিটির মোট আয়তন ১৬২০ বর্গফুট, যার মধ্যে ১২৫০ বর্গফুট নিট ব্যবহারযোগ্য এবং ৩৭০ বর্গফুট পার্কিং ও কমন স্পেস। আবেদন করে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৬ হাজার গ্রাহক ফ্ল্যাট বরাদ্দ পান।
বরাদ্দ দেয়ার সময় কথা ছিলো ২০১৫ সালের জুন মাসে শেষ হবে ৬ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ। আর তা গ্রাহকদের বুঝিয়ে দেয়া হবে ২০১৬ সালের প্রথম দিকে। সে অনুযায়ী প্রতি বছর গ্রাহকদের নির্ধারিত কিস্তির টাকা পরিশোধ করার কথা। প্রথম পর্যায়ে একজন গ্রাহক জামানতের তিন লাখ এবং প্রথম কিস্তিসহ মোট ১০ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন।
কার পার্কিং, ইউটিলিটি ও সংযোগ খরচ ছাড়া ১৬২০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাটের দাম ধরা হয়েছিলো ৫৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এখন নির্মাণ কাজ পিছিয়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে। তাই ফ্ল্যাটের দাম বাড়ানোরও ইঙ্গিত দিয়েছে রাজউক।
এর আগে বেসরকারি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এনা প্রপার্টিজ একটি বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ শুরু করলেও শেষ করতে না পারায় রাজউক তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে।
সরেজমিন উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিনই ফ্ল্যাট প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি দেখতে আসছেন গ্রাহকরা। নির্মাণ কাজের যথাযথ অগ্রগতি না হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ।
রাজধানীর মিরপুরের ব্যবসায়ী এবং ফ্ল্যাট গ্রহীতা এম নুরুজ্জামান বলেন, রাজউকের উপর আস্থা রেখে এই প্রকল্পে ফ্ল্যাটের জন্য আবেদন করেছিলাম। বরাদ্দ পেয়েছি ২০১২ সালে, কিন্তু কাজ যেভাবে এগুচ্ছে তাতে কবে ফ্লাটে উঠতে পারবো বুঝতে পারছি না।
কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় কেনো এমন প্রশ্নের উত্তরে উত্তরা ফ্ল্যাট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বেসরকারি কোম্পানিগুলো কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এ পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। তবে রাজউক এখন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পের কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে। যতো কম সময়ে সম্ভব গ্রাহকদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়া হবে।






