যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার নাইটক্লাবে সন্ত্রাসী হামলায় ৫০জন নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এই দুঃসময়ে সরকার ও বাংলাদেশের জনগণ যুক্তরাষ্ট্রের পাশে রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,‘আমি এই ঘৃণিত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং একইসঙ্গে যে কোন ধরনের সন্ত্রাস বা উগ্রচরমপন্থার বিরুদ্ধে আমার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির পুনরোল্লেখ করছি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি নাইটক্লাবে সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সমাজ থেকে এ ধরনের ঘৃনিত অপতৎপরতা দূর করতে সকলের সংঘবদ্ধ উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে পাঠানো এক শোক বার্তায় বলেন, ‘আমি এই ঘৃণিত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং একইসঙ্গে যে কোন ধরনের সন্ত্রাস বা উগ্রচরমপন্থার বিরুদ্ধে আমার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির পুনরোল্লেখ করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীর কোন জাত-পাত,ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নেই, সন্ত্রাসীর পরিচয় সে শুধুই সন্ত্রাসী। আসুন আমাদের শান্তিপ্রিয় সমাজ থেকে এদের উচ্ছেদে আমাদের সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টাকে আরো শক্তিশালী করি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু সময় আগেই ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডোর একটি ‘কমিউনিটি ক্লাবে’সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন নিহত এবং বহু আহতের ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত এবং শোকাহত।তিনি বলেন, ‘আমার সরকার এবং জনগণ এই দুঃসময়ে আমেরিকার সরকার এবং বন্ধুপ্রতীম জনগণের পাশে রয়েছি এবং মানব সভ্যতার জন্যই হুমকি হিসেবে বর্তমান সময়ে গজিয়ে ওঠা সন্ত্রাস ও পরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কাধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনব্যক্ত করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আপনার মাধ্যমে এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার শিকারদের পরিবারের সদস্য এবং সর্বপরি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের প্রতি আমাদের অন্তরের অন্তস্থল থেকে শোক এবং সহানুভূতি জানাচ্ছি.. সন্ত্রাসী ঘটনায় প্রতিটি মৃত্যুর জন্য, আমাদের হৃদয় শোকে ব্যথাতুর এবং হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে’।
স্থানীয় সময় রোববার মধ্য রাতে আফগান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ওমর মতিনের অতর্কিত বন্দুক হামলায় লন্ডভন্ড হয় অরল্যান্ডোর পালস নাইটক্লাব। মুহূর্তেই প্রাণ হারান ৫০ জন। আহত হন অর্ধশতাধিক মানুষ। ক্লাবের কয়েকজনকে জিম্মিও করে রাখে মতিন।
কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায় সে। এর আগে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা সন্দেহে ২০১৩ সালে দুই দফায় এফবিআইএর তদন্তের মুখে পড়ে বর্তমানে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন ওমর মতিন।
হামলায় শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে সব মার্কিনীদের ওপর হামলা বলেছেন ওবামা। জঙ্গিগোষ্ঠি আইএস ভয়াবহ এ সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করলেও তা মানতে নারাজ মার্কিন কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, আইএস যে এ হামলা চালিয়েছে তার কোনো প্রমাণ নেই।







