ফ্রান্সে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি সামলাতে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার্দ ফিলিপের সঙ্গে বৈঠকের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সরে এসেছে বৈঠকের জন্য গঠিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের প্রতিনিধি দলটি।
কারণ হিসেবে ওই প্রতিনিধি দলের কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, কট্টরপন্থি বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে হত্যার হুমকি পেয়েছেন তারা। বলা হয়েছে, ভুলেও যেন তারা সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সমঝোতার চেষ্টায় যোগ না দেন।
নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে প্রথমে শুধু আরেক দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রতিবাদ করা হলেও সময়ের সাথে সাথে অভিযোগের ডালপালা ছড়াচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের প্রতি জনগণের আরও সুদূরপ্রসারী ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
প্যারিসের রাজপথে চলমান সহিংসতা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালে জানালা বন্ধ করার সময় টিয়ারশেলের আঘাত লাগলে গুরুতর আহত হয় এই ব্যক্তি। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে সহিংসতায় ৪ জনের মৃত্যু হলো।
তবে আন্দোলনকারী কিছু কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে সমালোচিত এবং নিন্দিতও হচ্ছে। বিশেষ করে গত শনিবার আর্ক দ্যু ত্রায়োমফের ঐতিহাসিক ভাস্কর্যগুলো ভাঙার ঘটনা বিশ্বজুড়ে নিন্দার মুখে পড়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, প্যারিসের প্লেস দি লা কনকর্ড থেকে ফ্রেঞ্চ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে বিক্ষোভকারীরা। প্রেসিডেন্ট ইমানুযেল মাক্রোঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের মুখপাত্র ক্রিস্তোফ চ্যালেনকন।
প্রধানমন্ত্রী ফিলিপে ডানপন্থি বিরোধী দলীয় নেতা মেরিন লে পেনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী ব্রুনো লে মেয়ার বিক্ষোভের ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে করছেন।
হাই-ভিজিবিলিটি (স্বল্প আলোতে উজ্জ্বল দেখা যায়) জ্যাকেটের মতোই একটি হলদে-সবুজ জ্যাকেট পরে বিক্ষোভকারীরা আন্দোলনে নেমেছে বলে এর নাম হয়েছে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। ফরাসি আইন অনুসারে যে কোনো যানবাহনে এই পোশাকটি থাকা বাধ্যতামূলক।








