বিশ্বকাপ কিংবা ইউরো নেশন্স চ্যাম্পিয়নশিপ, ফুটবলের বড় আসরে নিজের দেশকে
একাই টেনে নিয়ে যাওয়ার রেকর্ড নেহায়েত কম নয়। এবারের ইউরোতে যারেথ বেল তার
ওয়েলস দল নিয়ে একাই ওলট-পালট করে দিচ্ছেন সব হিসাব নিকাশ। ত্রিশ বছর আগে
১৯৮৬ বিশ্বকাপে তার চেয়েও কয়েকগুণ করেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা,
আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছিলেন বিশ্বকাপ। যুগে যুগে অবশ্য এমন ফুটবলার এসেছেন
অনেক। কেউ পেরেছেন শেষটা ছুঁতে, কেউ আটকে গেছেন কাছাকাছি গিয়ে।
দেখে নিন ওয়ান ম্যান টিম এবং তাদের নায়কদের হাইলাইটস:
মিশেল প্লাতিনি, (ফ্রান্স ইউরো ১৯৮৪):
দ্য গ্রেটেস্ট মিডফিল্ডার ইন দ্য হিষ্ট্রি বলা হয় তাকে। ইতিহাসের পাতায় নিজ নামেই উজ্জ্বল মিশেল প্লাতিনি। অন্যতম সেরা এই মিডফিল্ডারকে ফুটবল বিশ্ব প্রথমবার চিনেছিলো ৮৪’র ইউয়েফা নেশন্স কাপে। ৫টি ম্যাচ খেলে প্লাতিনি ৯ গোল করেছিলেন ওই আসরে। শুধু টুর্নামেন্টের টপ স্কোরার হয়েই বসে থাকেননি, প্রথমবারের মতো ফ্রান্সকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন ইউরো ফুটবলে। পরবর্তিতে অবসরে যাওয়ার পর ইউয়েফার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন এই ফরাসি মিডফিল্ডার।
দিয়েগো ম্যারাডোনা, (আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ১৯৮৬):
তথাকথিত ‘ওয়ান ম্যান টিম’ এর জনক বলা যায় তাকে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ফুটবল বিশ্ব মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখেছে দিয়েগো ম্যারাডোনার ক্ষমতা। সাফল্যের জন্য ক্ষিপ্র হয়ে ওঠা মাঠের এক অদ্ভুত চিতাবাঘ হয়ে আবির্ভুত হন নাম্বার টেন। একাই কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন বিশ্ব ফুটবলের আসর। ‘ঈশ্বরের হাত’ দিয়ে দেওয়া সেই আলোচিত গোলটির কারিগরও ছিলেন এই ফুটবল লিজেন্ড। আবার ওই ম্যাচেই গোল অব দ্যা সেঞ্চুরি। দিয়েগো ম্যারাডোনার ক্যারিশমায় নির্ভর করেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো আর্জেন্টিনা।
রজার মিলা, (ক্যামেরুন বিশ্বকাপ ১৯৯০):
ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের জন্য অনন্য এক ফরোয়ার্ড। বিশ্ব ফুটবলের ‘আইকনিক’ গোল স্কোরার হিসেবেই পরিচিত রজার মিলা। নিজের জাত চিনিয়েছিলেন ইতালিয়া ৯০ বিশ্বকাপ আসরে। তখন তার বয়স যে ৩৮ তা বুঝতেই দেননি ঘুর্ণক্ষরে। মিলার একক নৈপুণ্যে ওই আসরে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়েছিলো ক্যামেরুন। এখন পর্যন্ত ওটিই তাদের সেরা সাফল্য হয়ে আছে।
রিস্টো স্টয়চকভ, (বুলগেরিয়া বিশ্বকাপ ১৯৯৪):
বললে খুব বেশি বাড়িয়ে বলা হবে না। বিশ্ব ফুটবলে স্টয়চকভের আগমনের আগে বুলগেরিয়ার তেমন কোন অর্জনই ছিলো না। পারফরমেন্স দিয়েই পুরো আসরজুড়ে আলোচনায় ছিলেন। তার অসাধারণ একক পারফর্যিান্সে ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিলো বুলগেরিয়া। ৬ গোল করে ওই আসরে রাশিয়ার ওলেগ সালেনকোর সঙ্গে যৌথভাবে সেরা গোলদাতা হয়েছিলেন স্টয়চকভ। পরবর্তিতে ক্লাব ফুটবলে এই তারকা স্ট্রাইকার বার্সেলোনায় নাম লেখান।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, (পর্তুগাল ইউরো ২০১২):
ভাগ্য সব সময় নায়কদের সমর্থন দেয় না। ২০১২’র ইউরোতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের কাপ জয় মনে হচ্ছিলো সময়ের ব্যাপার। নিজের সেরা ফর্মে ছিলেন সিআর সেভেন। কিন্তু টাইব্রেকারে ওই আসরের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে সেমিফাইনালেই আটকে গেলো পর্তুগিজরা। পুরো আসরে একাই পর্তুগালকে টানলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। হয়েছিলোন যৌথভাবে সেরা গোলদাতাও।
হামেস রদ্রিগেজ, (কলম্বিয়া বিশ্বকাপ ২০১৪):
দুই বছর আগের বিশ্বকাপ ফুটবল, ব্রাজিল আসরে ওয়ান ম্যান টিমের এমন ওয়ান ম্যান হিরো ছিলেন কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেজ। ধারাবাহিক পারফর্যিান্সে মাত করেছিলেন ফুটবল বিশ্বকে। গ্রুপ পর্বে কলম্বিয়ার তিন ম্যাচ এবং রাউন্ড অফ সিক্সটিনে উরুগুয়ের বিপক্ষে জয়ে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন হামেস। ৫ ম্যাচে ৬ গোল করে জিতেছিলেন গত বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট। এরপর ৮০ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তিতে হামেস রদ্রিগেজ নাম লেখান স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে।
গ্যারেথ বেল, (ওয়েলস ইউরো ২০১৬):
চলতি ইউরো নেশন্সে গ্যারেথ বেল এবং তার ওয়েলসও একই পথে। এক দেশের এক নায়কের কাঁধে চড়ে ওয়েলস শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে তা সময়ই বলে দেবে। তবে এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচে গ্যারেথ বেলের পারফর্যোন্সেই ওয়েলসের এই এগিয়ে চলা। টুর্নামেন্টে বেলের গোলসংখ্যা হিসাব করলে দাঁড়ায় সাড়ে তিনটি। কারণ রাউন্ড অফ সিক্সটিনে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে যে আত্মঘাতি গোলে ওয়েলসের জয় এসেছে সেটিতেও গোল পোষ্টের দিকে কিকটি মেরেছিলেন বেলই। শুক্রবার দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবে গ্যারেথ বেল এন্ড কোম্পানি। কোম্পানিটা শুধু নামে, আসলে গ্যারেথ বেল।







