বরাবরই লাজুক স্বভাবের তাশফিন এক সময় সবার নজর কেড়েছিলেন ভালো ছাত্রী আর নরম স্বভাবের মেয়ে হিসেবে। তবে ২৯ বয়সী এ নারীর আইএস সংশ্লিষ্টতা অবাক করে দেয় তার খুব কাছের মানুষদেরও। তাহলে কিভাবে নীরব ঘাতক হয়ে উঠলেন তিনি? তাকে ঘিরে এখন প্রশ্ন। চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
পাকিস্তানের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করা তাশফিনের বেড়ে ওঠা সৌদি আরবে। সেখানেই বাহারুদ্দিন জাকারিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মাকোলজিতে ডিগ্রি লাভের পর ফিরে আসেন পৈত্রিক ভূমি মুলতানে। এটা ছিলো ২০০৭ সাল। এরপর থেকেই মূলত তাশফিনের জীবনের মোড় ঘুরতে থাকে।
পাকিস্তানে আসার পর তিনি অবসর সময় কাটাতে থাকেন বিভিন্ন মাদ্রাসায়। তার ২৯ বছর বয়সী ঘনিষ্ঠ বান্ধবী আবিদা রানী সাংবাদিকদের জানান, ‘পাকিস্তানে আসার পর ফার্মাকোলজিতে পড়াশুনা করা তাশফিন ঝুঁকে পড়েন ইসলামিক স্টাডিজে। ওই সময়ে সে মুলতানের বিভিন্ন মাদ্রাসায় সময় কাটাতে শুরু করে।’
‘সারা সন্ধ্যাটা কাটতো তার মাদ্রাসাগুলোতে। ওই মাদ্রাসাগুলো ছিলো কট্টরপন্থী সুন্নি সম্প্রদায়ের ওয়াহাবিয়া মতবাদে পরিচালিত।’ বলেন আবিদা।
এরই মধ্যে একটি ডেটিং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাশফিনের পরিচয় হয় মার্কিন নাগরিক রিজওয়ানের। এক পর্যায়ে তাদের সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায়। ২০০৯ সালের দিকে রিজওয়ান তাকে বাগদত্তা ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। ওই বছরই ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মসজিদে তাশফিনের সঙ্গে রিজওয়ানের বিয়ে হয়।
তাশফিনকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে আবিদা বলেন, ‘সে খুবই শান্ত স্বভাবের ছিলো। বাইরে এমনকি বাসার ভেতরও সে বোরকা পরে থাকতো। যখন ক্লাসে যেতো-প্রথম বেঞ্চে বসতে চাইতো না; এমনকি অপরিচিত কোন ছেলের সঙ্গে কথাও বলতে চাইতো না।’
এক সময় শিক্ষক হিসেবে তাশফিনকে পড়ানো অধ্যাপক আতিফ নিসার বলেন, ‘গোঁড়া হলেও খুবই শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিলো তাশফিন। বোরকা পরা অবস্থায় ছাড়া নিজের ছবি তুলতে চাইতো না।’
তবে কি পাকিস্তানে আসার পরই তাশফিন জঙ্গিবাদের মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে উঠলেন? এ নিয়ে এখন বিতর্ক চলছে। কিন্তু মার্কিন সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা রিজওয়ান কিভাবে আইএসের ফাঁদে পড়লেন এটা বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। তাশফিন নাকি অন্য কেউ তাকে প্রভাবিত করেছিলো?
ইতিমধ্যে এফবিআই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাশফিনের আইএস তথা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে। রিজওয়ানের ব্যাপারেও চলছে অনুসন্ধান।
এমনকি তাশফিন যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় ভিসায় পাকিস্তানের যে ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন তার অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এটাও অবাক করেছে বিশ্বের পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত দেশটির গোয়েন্দাদের।






