সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মো. মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সন্তুষ্টির রেশ ছিল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে। “কোনো বিরোধীদলীয় নেতা বা ধর্মীয় নেতার ফাঁসি হয়নি। ফাঁসি দেয়া হয়েছে দুই যুদ্ধাপরাধীর।”, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসি নিয়ে জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনায় এমন মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা।
এসময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া তার বক্তব্যে বলেছেন, এই মুজাহিদ আমার সহযোদ্ধা জুয়েল-রুমিকে হত্যা করেছে। রুমির মা শহীদ জাহানারা ইমাম আমার শার্টের কলার চেপে ধরে জিজ্ঞাসা করেছিলো আমার রুমির হত্যার বিচার হবেনা। আমি কোন উত্তর দিতে পারিনি।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, আমরা কোন বিরোধীদলীয় নেতা কিংবা ধর্মীয় নেতাকে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে হত্যা করিনি। আমরা একজন ৭১’র কুখ্যাত রাজাকার যে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা চালিয়েছে, আমাদের সরকার শেখ হাসিনার সরকার সর্বোচ্চ আদালতের রায় মেনে তাদের ফাঁসির রায় কার্যকর করেছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসি নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা ।
তারা বলেন, হত্যা করে পার পেয়ে যাওয়া বা বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি এদেশে চালু হয়েছিল এই ফাঁসির মাধ্যমে তা বন্ধের পথে আরো একধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
শেখ সেলিম, ফ্রান্সের প্যারিসে যে ঘটনা হলো, সেখানে তো কারও বিচার করা হচ্ছেনা। ধরে ধরে মারা হচ্ছে। আমরা তো তাদের ধরে ধরে মারিনি।
শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বঙ্গবন্ধু ক্ষমা করেছিলেন-কাকে ক্ষমা করেছিলেন, যারা খুন, ধর্ষণ লণ্ঠননের সঙ্গে জড়িত ছিলো তাদের ক্ষমা করা হবেনা এটা ওখানে স্পষ্ট করা ছিলো।
চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী বলেন, “কালকে (শনিবার) সন্ধ্যায় একবার আমরা ভেবেছিলাম, এটা (মৃত্যুদণ্ড কার্যকর) মনে হয় স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন, উনি ভাঙবেন, কিন্তু মচকাবেন না।”
বঙ্গবন্ধুর ক্ষমা, বিচার প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিরোধীদলীয় নেতার ফাঁসি দেয়া হয়েছে বলে যেসব বক্তব্য এসেছে তারও ব্যাখ্যা দেয়া হয় সংসদে।







