মানবতাবিরোধী আপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহম্মদ মুজাহিদের রিভিউ পিটিশনেও রায় বহাল থাকার আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম দুই কৌঁসুলি।
মামলার রিভিউ কোনো আপিল নয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষের দুই কৌঁসুলি তুরিন আফরোজ ও জেয়াদ আল মালুম বলেন, রিভিউয়ে সাধরণত কি হয়- এখানে মামলার মেরিট পুনরায় উপস্থাপনের সুযোগ থাকে না। তবে ডকুমেন্টে যদি কোনো ভুল থেকে থাকে তাহলে সেটা বিবেচনা করা হয়। তবে আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছে তাতে এখন পর্যন্ত কোনো ক্রুটি ধরা পড়েনি বলে উল্লেখ করেন, জেয়াদ আল মালুম।
রিভিউয়ে রায় বদলে যাওয়ার সুযোগ আছে কি না? চ্যানেল আই অনলাইনের এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, রিভিউয়ে রায় পরিবর্তন হয়েছে এমনটা জানা নেই। আবার সাকা চৌধুরীর সাফাই সাক্ষী উপস্থিত করার সুযোগ নেই বলেও তারা জানান। কেননা, আসামী পক্ষের সাফাই সাক্ষী হাজির করার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
দুই যুদ্ধাপরাধীর ভাগ্য এখন উচ্চ আদালতের হাতে উল্লেখ করে তুরিন আফরোজ বলেন, রিভিউ এর সম্পূর্ণ বিষয়টি এখন উচ্চ আদালতের হাতে, আদালতই ভালো বলতে পারবেন রায়ের পরিবর্তন হবে কি না। একজন আইনজীবী হিসেবে তাকিয়ে আছি আদালত কি সিদ্ধান্ত দেয়।
এর আগে, সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২৩টি অভিযোগ বিপরীতে নয়টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে তৃতীয় অভিযোগে নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যা, পঞ্চম অভিযোগে সুলতানপুর বণিকপাড়া ও ষষ্ঠ অভিযোগে ঊনসত্তরপাড়ায় গণহত্যা, অষ্টম অভিযোগে হাটহাজারীর আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মোজাফফর ও তার ছেলেকে অপহরণ করে খুনের দায়ে সাকা চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
আর একাত্তরে পাকিস্তানের পরাজয়ের শেষ প্রান্তে এসে বুদ্ধিজীবী নিধনের পরিকল্পনা ও সহযোগিতার দায়ে আলবদর বাহিনীর নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
প্রসিকিউশনের আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে প্রথম অভিযোগে সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে অপহরণের পর হত্যা এবং ষষ্ঠ অভিযোগে বুদ্ধিজীবীসহ গণহত্যার ষড়যন্ত্র ও ইন্ধনের অভিযোগে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে ওই দণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছিল বিচারিক আদালত।







