বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর দিকে যেমন আগ্রহ ভরে তাকিয়ে থাকে ফুটবল ভক্তরা, তেমনি খেলোয়াড়দের আগ্রহ তাকে আরেকটি দিকে। সেটি বিশ্বকাপের বলের দিকে। ফুটবলারদের আগ্রহকে কেন্দ্র করে বিশ্বকাপের বলও এখন সমান তাই আলোচনা-মনোযোগে।
রাশিয়া বিশ্বকাপ-২০১৮’র বল নির্বাচন করা হয়েছে টেলস্টারকে। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেই যে বলের দিকে সমালোচনার তীর ছুড়েছেন বিশ্বের সেরা সব গোলরক্ষকরা। অবশ্য প্রতি বিশ্বকাপেই বল ঘিরে থাকে কোনো না কোনো বিতর্ক।
১৯৭০ বিশ্বকাপের বল টেলস্টার থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়ে নকশা করা হয়েছে এবারের বিশ্বকাপের বল, টেলস্টার১৮। নকশা করেছে ফিফার অফিসিয়াল পার্টনার অ্যাডিডাস। পাকিস্তানের শিয়ালকোটের ফরোয়ার্ড স্পোর্টস এ বলের প্রস্তুতকারী।
২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর মস্কোতে রাশিয়া বিশ্বকাপের বলের অফিসিয়াল পরিচিত করানো হয় লিওনেল মেসির হাত দিয়ে। ২০১৪ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সঙ্গে ছিলেন বিভিন্ন সময় বিশ্বকাপ জয়ী জিনেদিন জিদান, আলেসান্দ্র ডেল পিয়েরো, জাবি আলোনসো, লুকাস পোডলক্সিরা।
আকারে ছোট ও হাল্কা হওয়ায় ফরোয়ার্ডরা ম্যাচে বিশেষ সুবিধা পাবেন এই বল থেকে। লিওনেল মেসিই যেমন বলে দিয়েছেন, টেলস্টার খুব মনে ধরেছে তার।
কিন্তু টেলস্টারে গোলরক্ষকদের সমস্যা দেখছেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক পেপে রেইনা। রাশিয়া বিশ্বকাপে দূর থেকে শটে অনেক গোল হবে বলেও মনে করছেন লিভারপুলের সাবেক গোলরক্ষক, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে বাজি ধরতে পারি যে, রাশিয়ায় কমপক্ষে ৩৫টি গোল দেখতে পাবেন দূর থেকে। কারণ এই বল ধরা একপ্রকার অসম্ভব।’
কী কারণে টেলস্টার গোলরক্ষকদের জন্য কঠিন হবে সেটাও ব্যাখ্যা করেছেন রেইনা, ‘বলটা প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো। আর এই কারণে বল ধরাটা অনেক কঠিন হবে।’
প্রীতি ম্যাচে বিশ্বকাপের বলে খেলে জার্মানির বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে স্পেন। সেই ম্যাচে এগিয়ে থেকেও থমাস মুলারের গোলে ড্র পায় জার্মানরা। ২৫ গজ দূর থেকে নেয়া মুলারের শট সুপারম্যান স্টাইলে লাফিয়েও ঠেকাতে পারেননি স্পেন গোলরক্ষক ডেভিড ডি গিয়া। ম্যাচ শেষেও বলের বাঁকে ডি গিয়ার চোখেমুখে বিস্ময়, ‘এ অদ্ভুত এক বল। এটা আরও ভালো করা যেতে পারতো।’
বলকে আরও পরিবর্তন করা যেত। এমনটা বলছেন জার্মান গোলরক্ষক আন্দ্রে টের স্টেগেনও, ‘এই বলটা আরও ভাল হওয়া উচিত ছিল। খুব বেশি নড়াচড়া করে বলটি।’
গোলরক্ষকরা এমনিতেই পরীক্ষাগারের তালিকায় উপরের দিকেই থাকেন। কে কতটা গোল বাঁচালেন সেটার চেয়ে সকলে মনে রাখেন কে কয়টা বাঁচাতে পারলেন না। ফুটবল আবার গোলের খেলাই। সবাই গোল দেখতে চায়। এই চাওয়া পূরণে ফরোয়ার্ডরা যখন নিজেদের শান দিয়ে চলেছেন, গোলরক্ষকদের তখন মন বেজার! মাঠের খেলায় কী ঘটে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।









