দুই দিন আগের এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। ছবিতে দেখা যায়- ফুটপাতে শুয়ে আছেন জ্বরে বেহুঁশ এক মা। আর তার মাথার কাছে বসে পরম যত্নে মায়ের মাথায় পানি ঢালছে ছোট্ট এক শিশু। শুধু তাই নয়, তার ৫ বছর বয়সী ছোট ভাইটিও মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করছে।
পরে সুবিধাবঞ্চিতদের সেবায় নিয়োজিত পারবেস হাসান নামের এক ব্যক্তির উদ্যোগে তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। মঙ্গলবার জানা গেল, সেই মা (ফরিদা) এবং তার পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন। তিনিই কুড়িগ্রামে পরিবারটির স্থায়ীভাবে থাকার জন্য খাস জমি বরাদ্দ, ওই দুই শিশুর পড়াশুনাসহ ফরিদার বেকার স্বামীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।
নিঃসন্দেহে বলা যায়, এটা জেলা প্রশাসকের মহৎ উদ্যোগ। তার বাইরেও হয়তো কেউ কেউ এ নিয়ে ভেবেছেন কিংবা কিছু একটা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ঠিক সময়ে সাড়া দিতে পারেননি। তবে দেরি করেননি সুলতানা পারভীন। সবার অাগে পদক্ষেপ নিয়ে প্রমাণ করেছেন, তিনি আন্তরিক।
এ নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই, প্রশ্ন থাকাও উচিৎ নয়। তবে আমাদের প্রশ্ন রাজধানীর ফুটপাতে ফরিদার মতো এমন কত মা পড়ে আছেন? ফরিদার ১১ বছরের মেয়ে আকলিমা অার ৫ বছরের ছেলে ফরিদের মতো কত শত শিশু ঘুরে বেড়াচ্ছে শহরময়? এমন চিত্র কি শুধুই রাজধানীর? দেশের অন্য জেলা শহরের চিত্রও কি এমন নয়? যদি তাই হয়, তাহলে সেইসব ফরিদা, আকলিমা আর ফরিদদের কী হবে? কে নেবে তাদের দায়িত্ব?
হ্যাঁ, তাদের সবার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। কারণ নাগরিকের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিৎসা পাওয়ার যে অধিকার; তা সাংবিধান স্বীকৃত ও সার্বজনীন মানবাধিকার। যে অধিকার থেকে কোনো ভাবেই তাকে বঞ্চিত করার সুযোগ রাষ্ট্র বা অন্য কারোই নেই।
অথচ অনেককেই এই স্বীকৃত সাংবিধানিক অধিকার থেকে আমরা বঞ্চিত হতে দেখি। কিন্তু এমন হওয়ার কথা নয়।
আমরা মনে করি, জাতি-ধর্ম-বর্ণ, জন্মস্থান, লিঙ্গ, গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষের মৌলিক অধিকার রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।








