ম্যাট হেনরির ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে প্রথমদিনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৫ রানে অলআউট হয়ে গেছে সাউথ আফ্রিকা। কিউইদের বিপক্ষে টেস্টে এটাই তাদের সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড।
বৃহস্পতিবার দিন শেষে নিউজিল্যান্ড ৩ উইকেটে তুলেছে ১১৬ রান। সফরকারীদের চেয়ে ২১ রানে এগিয়ে গেছে। হেনরি নিকোলস ৩৬ ও নাইটওয়াচম্যান নিল ওয়াগনার ২ রানে দ্বিতীয় দিনের শুরু করবেন।
সাউথ আফ্রিকা: ৯৫; নিউজিল্যান্ড ১১৬/৩ (প্রথমদিন শেষে)
দ্বিতীয় ওভারে অধিনায়ক ডিন এলগারের উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। তৃতীয় স্লিপে বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে হেনরির বলে ক্যাচ নেন টিম সাউদি। ১০ রান করা সারেল এরউইকে সাজঘরে পাঠান কাইল জেমিসন। অতিথিদের রান তখন ২০।
এইডেন মার্করামও করতে পারেননি সুবিধা। ১৫ রানে হেনরির বলে টম ব্লান্ডেলের গ্লাভসে ধরা পড়েন। ৮ রান করে হেনরির শিকার হন ফন ডার ডুসেন।
সাউদির বলে মিড উইকেটে ডেভন কনওয়ের হাতে সহজ ক্যাচ দেন ৭ রান করা টেম্বা বাভুমা। তাতে ৫২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে সাউথ আফ্রিকা।
ষষ্ঠ উইকেটে কাইল ভারনানের সঙ্গে ৩৩ রান যোগ করেন জুবায়ের হামজা। সেটাই প্রোটিয়া ইনিংসের একমাত্র বড় জুটি।
জুবায়ের হামজা ৭৪ বলে ৩ চারে সর্বাধিক ২৫ রানের ইনিংস খেলেন। হেনরির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
পরে কেবল ১০ রান যোগ করতে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে বসে প্রোটিয়ারা। ৪৯.২ ওভারে ৯৫ রানে থামে ইনিংস।
সেইসঙ্গে নিজেদের ইতিহাসে ৯০ বছর আগে পাওয়া লজ্জার সামনে নতুন করে পড়েছে। ১৯৩২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৬ রানে অলআউট হয়েছিল সাউথ আফ্রিকা। পরে টেস্টে আর কখনোই ১০০ রানের নিচে গুটিয়ে না যাওয়ার দীর্ঘ যাত্রা ছিল।
সফরকারীদের ব্যাটিং অর্ডার তছনছ করে দিয়েছেন ম্যাট হেনরি। ১৫ ওভারে ৭ মেডেনে ২৩ রানে নিয়েছেন ৭ উইকেট। টিম সাউদি, কাইল জেমিসন ও নিল ওয়াগনার নেন একটি করে উইকেট। উইকেটরক্ষক ব্লান্ডেল নিয়েছেন ৪ ক্যাচ।
প্রতিপক্ষকে অল্প রানে বেধে কিউইরা ব্যাটিংয়ে বেশ ধীরগতির সূচনা করে। উইল ইয়াং দলের ১৮ রানের সময় আউট হন, তখন স্বাগতিকরা ১১ ওভারের বেশি খেলে ফেলেছে। ইয়াং ৮ রান করে মার্কো জানসেনের বলে উইকেটের পেছনে ভারনানের গ্লাভসবন্দি হন।
ইনিংস বড় করতে পারেননি কেন উইলিয়ামসনের অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া টম ল্যাথাম। ৫১ বল খেলে করেন ১৫ রান। ডুয়ান্নে অলিভিয়েরের বলে হন বোল্ড।
তৃতীয় উইকেটে ডেভন কনওয়ে ও হেনরি নিকোলস ৭৫ রানের জুটি গড়েন। কনওয়ে ৩ চারে ৭৬ বলে ৩৬ রান করে অলিভিয়েরের বলে বোল্ড হলে জুটি ভাঙে।
তখন দিনের খেলা শেষ হওয়ার বাকি ছিল ১৭ বল। বাকি সময় পার করতে নাইটওয়াচম্যান ওয়াগনার ক্রিজে আসেন। নিকোলসের সঙ্গে দিনটা পার করে দিতে পারেন কোনো বিপদ আসতে না দিয়ে।








