স্বপ্নের কারিগর ছিলেন প্রয়াত আনিসুল হক। স্বপ্ন দেখতেন ঢাকাকে অন্যতম বাসযোগ্য নগরী করে গড়ে তোলার। সে পথেই হাঁটছিলেন সবার প্রিয় মেয়র আনিসুল হক। সব বাধা পেরিয়ে ঢাকাকে নিয়ে দেখা স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু মৃত্যুঝড় থামিয়ে দিল তার সকল পরিকল্পনা।
মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে আর সবার মতো ঢাকাবাসীও শোকাগ্রস্ত। নগরবাসী কোনভাবেই মানতে পারছেন না তাদের প্রিয় মেয়রের এভাবে চলে যাওয়া। তাকে হারিয়ে তারা নিজেদের হাহাকার আর কষ্টের কথা জানিয়ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।
গোলাম মোস্তফা নামে একজন লিখেছেন: চলে গেলেন আনিসুল হক। গত একমাস কক্সবাজার থেকে ময়লা-আবর্জনাপূর্ণ পর্যটন নগরী দেখে একটা জিনিস ভাবছি, আর সেটা হলো কক্সবাজার এর জন্য একজন আনিসুল হকের মতো মেয়র দরকার ছিলো। বাসযোগ্য ঢাকার স্বপ্ন কারিগর আর নেই। ঢাকার জন্য উনি অনেক কিছুই করেছেন ও করতেন। ভালো থাকুন ওপারে প্রিয় মেয়র।
সাংবাদিক আনিস আলমগীর লিখেছেন: ‘‘জীবনের পরিণতিই হচ্ছে মৃত্যুকে আলিঙ্গন। দ্বিতীয় কোনও রাস্তা নেই। আজ এপারে, কাল ওপারে। বয়স যতই বাড়ছে, দুপারেই জমছে বন্ধু বান্ধর আত্মীয় স্বজন।
কাল মেয়র আনিস ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ যখন কানে এল, অপ্রত্যাশিত মনে হয়নি। গেল চার মাস ধরে উনাকেতো কত বারই না মারা হয়েছে, কত উদ্ভট খবর হয়েছে- কোনোটাই বিশ্বাস হয়নি। কিন্তু কাল একবাক্যেই বিশ্বাস হয়েছে। মূলত দ্বিতীয় দফায় যখন হাসপাতালে গেলেন তখন মন বলছিল উনি আর ফিরবেন না আমাদের মাঝে। আর যদি ফিরেনও- আগের আনিস ভাই আসবেন না।
আমার দুঃখ হচ্ছে আমরা ঢাকার বাসিন্দারা এমন একজনকে হারালাম, যার বিকল্প দেখি না। অল্প কদিনেই তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় যে ক’টি দৃশ্যনীয় পরিবর্তন এনেছেন, তাতে প্রমাণ করেছেন- ইচ্ছা থাকলে নগরবাসীকে নগরকর্তারা অনেক স্বস্তি দিতে পারেন। সব কিছু তিনি করতে পারেননি, কিন্তু তার ইচ্ছাটা প্রকাশিত হয়েছে প্রতি পদক্ষেপে।
তার অভাব আমরা আরও অনুভব করবো কারণ, আমরা পেয়েছি চারদিকে চোর আর চোর। চোরের পুত চোর। তাকে বাদ দিলে, একজন মেয়রও ঢাকাবাসী পায়নি চোর তকমা ছাড়া। চোর, মেধাহীন লোকগুলো দিনের পর দিন ঢাকাকে করে তুলেছে বাস অযোগ্য শহরে। রাজনৈতিক অনুগ্রহে এরা আমাদের ঘাড়ে এসে আগামীতেও তাই করবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিনন্দন যোগ্য কাজ করেছিলেন, রাজনীতির বাইরে গিয়ে ঢাকাবাসীকে মেয়র আনিসুল হককে উপহার দিয়ে। শহর দুভাগ না করে তাকে একা দিলে আরও বেশি ভাল হতো নগরবাসীর।
খুব বড় জীবন পাননি আনিস ভাই কিন্তু অসাধারণ কাজ দিয়ে তিনি এপারে বেঁচে থাকবেন অনেক বছর। দেশের সবচেয়ে আধুনিক, জনপ্রিয় উপস্থাপকের আসনটি দখল করা, বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই’র মতো শীর্ষ সংগঠনের শীর্ষ নেতা হওয়া, সফল ব্যবসায়ী এবং সর্বশেষ একজন জনপ্রিয় মেয়র হওয়া- সবার ভাগ্যে জুটে না।
যেখানেই থাকেন আনিস ভাই, শান্তিতে থাকেন! আল্লাহ যেন আপনাকে জান্নাতবাসী করেন এবং আপনার স্বজনদের এই শোক বইবার ক্ষমতা দেয়- এই দোয়া করি। আপনার সঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলো, বিশেষ দিনে আপনার ম্যাসেজগুলো, উপহারগুলো- আমাদের অনেকের কাছে অমর থাকবে।’
শিক্ষক দেব দুলাল গুহ লিখেছেন: ‘মেয়র আনিসুল হক একজন সফল ব্যবসায়ী, সফল নেতা, সফল উপস্থাপক, আমি বলবো সফল মেয়রও। তার সুন্দর বাচনভঙ্গী আর সদাহাস্যজ্জ্বল হ্যান্ডসাম লুক তার বক্তব্যে অন্যরকমের এক ভালোলাগা এনে দিতো, লাখো তরুণকে স্বপ্ন দেখাতো। মেয়র হিসেবে অনেক অসাধ্য সাধন করার চেষ্টা তিনি করেছেন। বড্ড অসময়েই তাকে বিদায় জানাতে হলো। ওপারে ভালো থাকুন আনিসুল হক।’
তাহফিকুর রহমান লিখেছেন: স্বপ্নের বাস্তবায়নের আগেই তিনি চলে গেছেন স্বপ্নেরও বহু দূরে। …বিদায় নায়ক…। সত্যিই অাপনি স্বপ্ন দেখতেন, স্বপ্ন দেখাতে পারতেন। এই যেমন: ঢাকার রাস্তায় ৫-৭ হাজার নতুন গাড়ি নামাবেন-রুট অনুযায়ী বিভিন্ন রঙের, বাস মালিকরা লভ্যাংশ শেয়ার করবেন নিয়ম অনুযায়ী। থাকবে না কোন অন্যায় প্রতিযোগিতা, শৃঙ্খলা আসবে ঢাকার পরিবহন সেক্টরে, যানজটকে দূর করা যাবে। শুরুতে অনেকের আপত্তি থাকলেও পরে এখন সবাই আমার মতো অপেক্ষায় ছিল আপনার রাজর্শিক আগমনের।
তিনি আরও লিখেছেন: আবার তেজগাঁও এর ট্রাক স্ট্যান্ড সরিয়ে জনগণের জন্য রাস্তা উন্মুক্ত করতে গিয়ে আপনাকে অবরুদ্ধ করে রাখার পরেও আপনার অসীম সাহসিকতায় রাস্তা পুনরুদ্ধার করে তেজগাঁও এর রাস্তার যানযট দূর করা। সত্যিই আপনি পারেনও। এরকম অসংখ্য ভালো কাজ, সাহসী কাজ দেখিয়েছেন এই স্বল্প সময়ে। আরো কতো স্বপ্ন আপনার মাথায়। আপনি স্বপ্ন দেখতেন সকলকে নিয়ে। স্বপ্ন দেখানোর লোকের বড়ই অভাব এখন এই দেশে।দল মতের উপরে উঠে আপনি হয়েছেন জননেতা। পরকাল নিয়ে আপনার যে স্বপ্ন ছিল, তার বাস্তবায়ন হোক আপনার পরকালীন জীবনে। আপনি থাকবেন জনগণের হৃদয়ে, আপনি ভালো থাকেবন…।
শেখ সালাম লিখেছেন: এভাবে আর কখনও দেখা যাবে না তাকে। মেয়র আনিসুল হক আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। ঢাকা মহা নগরীর জন্য তার মহৎ উদ্যোগ আর কাজের জন্য ঢাকাবাসী মনে রাখবে আরো অনেক দিন। তার আত্মা চিরশান্তি লাভ করুক।
গাজী নাসিরউদ্দীন আহমেদ লিখেছেন: ঢাকার প্রায় সব সাংবাদিকের সঙ্গেই দেখছি আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সবার সঙ্গেই উনার ছবি আছে দেখছি। তারপরও তার অসুস্থতা নিয়ে এত গুজব ছড়ালো কারা? মরে যাবার আগে তাকে বারবার মারলেন কারা? নাকি সাংবাদিকরা নিজেদের কাজ ভুলে ছিলেন এদ্দিন?
আব্দুল কাইয়ূম সেলিম লিখেছেন: প্রিয় মেয়র আনিসুল হক আর নেই, বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে !
খান সাঈদ লিখেছেন: না, আর পাবো না তার মত সাহসী আর স্বপ্নের ফেরিওয়ালাকে। ঢাকা শহর আবার চলে যাবে নষ্টদের দখলে…। নগর ভবন পরিণত হবে দুর্নীতির ভাগাড়ে।
দেওয়ান আবদুল খালেক লিখেছেন: চলেই গেলেন স্বপ্নবাজ আনিসুল হক। তিনি মেয়র হওয়ার পর মানুষকে শুধু স্বপ্নই দেখাননি, অনেক স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেছেন। যার সুফল ঢাকার উত্তরের বাসিন্দারা পাচ্ছেন। তাই তার এভাবে চলে যাওয়াটা, মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর। তার মতো স্বপ্নবাজরা এভাবে চলে গেলে, সাধারণ মানুষের যে ক্ষতি হয়, তা অপূরণীয়।
কুন্তল চক্রবর্তী লিখেছেন: এক সময়ের বিটিভির তুখোড় উপস্থাপক, নগরপিতা, মোটিভেটর, একজন দক্ষ কর্মীকে আমরা হারালাম। পরপারে ভালো থকবেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয়। প্রতিটি দেশবাসী, যুব সমাজ, ঢাকাবাসীর কাছে আপনার অবদান অমর হয়ে রইবে। আপনার পরিবারের প্রতি রইলো গভীর সমবেদনা। ঢাকা উত্তর সিটিতে আপনার গড়ে যাওয়া অনিন্দ্য সুন্দর সবকিছুতে দৃষ্টিপাতেই আপনাকে খুব মিস করবো।
সাজ্জাদ হোসেন লিখেছেন: ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন। এভাবে চলে গেলেন মেয়র আনিস সত্যি বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।প্রিয় এই মানুষটির মৃত্যুতে গভীর শোক এবং সমবেদনা প্রকাশ করছি।
শাহাদাত হোসেন লিখেছেন: অাপনি শুধু একজন মেয়র ছিলেন না, আপনি ছিলেন ঢাকা উওরের মানুষের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করার স্বপ্নদ্রষ্টা। প্রথম যখন খবর এর শিরোনামে আপনার চলে যাবার কথা শুনলাম, আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, তাই বার বার দেখছিলাম। আমি ঠিক শুনছিতো! জানতাম আপনি অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু কখনো এক বারের জন্যেও মনে হয়নি আপনি আর আমাদের মাঝে ফিরবেন না, আপনার এভাবে চলে যাওয়া মানতে পারছি না।








