তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ায় গুজবের অনেক ডালপালা ছড়িয়ে অভিভাবকদের আন্দোলনের মুখে গার্লস উইং ক্যাম্পাসের ভেতরে দায়িত্ব পালন করা সকল পুরুষ কর্মীকে সরিয়ে নিয়েছে মোহাম্মদপুর স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ।
তারা জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি সোমবারের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। যে মেয়েটি হয়রানির শিকার বলে অভিযোগ তার বাবাও ওই কমিটির সদস্য।
তদন্ত কমিটি এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এরইমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হয়েছে, সংখ্যালঘু এক কর্মচারির নামে যে অভিযোগ উঠেছে তার কোনো সত্যতা নেই। ওই সময় সেখানে অন্য একজন দায়িত্ব পালন করছিলো। তবে রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত ওই কর্মচারিসহ ঘটনার দিন ক্যাম্পাসে থাকা কর্মচারিরা সবাই সাময়িক বরখাস্ত থাকবে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রিপারেটরি স্কুলের ইংলিশ ভার্সনের পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু তাৎক্ষণিক শাস্তির দাবিতে কিছু অভিভাবক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখালে তাদের সঙ্গে পাল্টা ক্রোধের সুরে কথা বলেন অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন এবং উপাধ্যক্ষ জিনাতুন নেসা।
এরপরই অভিভাবকদের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে জিনাতুন নেসা বলেছেন, ফুল থাকলে ভোমরা আসবেই। একাধিক মেয়ে টানা একমাস যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে বলেও গুজব ছড়ায়। এমনকি গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
এভাবে একদিকে গুজব এবং অন্যদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ায় শনিবার সকাল থেকেই কয়েকশ অভিভাবক গার্লস উইং-এর সামনে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করলে স্কুল ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ম. তামিম কিছু সিদ্ধান্ত জানানোর পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে আছে, উপাধ্যক্ষ জিনাতুন নেসার বিরুদ্ধে আগে একাধিক ঘটনায় অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ থাকায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, ব্যবস্থাপনা কমিটিতে অভিভাবকদের দু‘জন সদস্য থাকার পরও নতুন করে অভিভাবক ফোরাম গঠন এবং যৌন হয়রানির ঘটনায় দায়ী কর্মচারিকে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান।
অধ্যাপক তামিম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, কোনো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়নি। খুবই দু:খজনক একটি ঘটনার পর অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ সমস্যায় কিছু অভিভাবকের মধ্যে ভুল ধারণা হয়েছিলো। কিছু গুজবও ছড়িয়েছিলো। এখন তার সমাধান হয়েছে।
পরে এগিয়ে এনে ২৫ মে পর্যন্ত স্কুলের গ্রীষ্মকালীন ছুটি ঘোষণা করা হয়।
১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি এন্ড হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল চলতি বছর থেকে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল এন্ড কলেজ নাম ধারণ করেছে।







