দেশে ইন্টারনেটের বিপ্লবের সঙ্গে হাতে হাতে স্মার্টফোনের যুগে অনলাইন পোর্টাল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে মানুষ যখন মুহূর্তের মধ্যেই কোন ঘটনার তাৎক্ষণিক আপডেট পেয়ে যাচ্ছে, তখন প্রিন্ট মিডিয়ার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দেশের শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার’র সম্পাদক মাহফুজ আনাম।
শনিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক ‘পাবলিক লেকচারে’ বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন: অনলাইন পোর্টাল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে অনেক দেশে প্রিন্ট মিডিয়া বন্ধ হয়ে গেছে। অনলাইন পোর্টাল টিকে আছে। সেখান থেকে মানুষ আজকাল মোবাইলেই আপডেট পাচ্ছে। সুতরাং প্রিন্ট মিডিয়াকে টিকে থাকা অনেক চ্যালেঞ্জের।
তবে পত্রিকাগুলোকে টিকে থাকতে হলে নতুন কোন বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে সে সম্পর্কে নিজের মতামত তুলে ধরে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত ইংরেজি দৈনিকের এ সম্পাদক বলেন, অনলাইন পোর্টাল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে প্রিন্ট মিডিয়াগুলোকে বিশ্লেষণমূলক সংবাদের ওপর জোর দিতে হবে। না হলে পত্রিকাগুলো অস্তিত্ব হারাবে।
পাঠক যদি অনলাইনেই বিশ্লেষণমূলক সংবাদ পেয়ে যায় তবে পত্রিকা গুরুত্ব হারাবে কিনা? উপস্থিত শ্রোতাদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তখন পাঠকের বিচার করবে কারা কত বেশি বস্তুনিষ্ঠ এবং নির্ভরযোগ্য বিশ্লেষণ দিল। তাই যারা যতবেশি বস্তুনিষ্ঠ, নির্ভরযোগ্য ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ দিবে তারাই টিকে থাকবে।

‘আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকল্প নেই’ শীর্ষক এ বক্তৃতায় সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ, সাংবাদিকতার ওপর সরকার ও কর্পোরেট প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ, মিডিয়ার সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন তিনি।
মাহফুজ আনাম মনে করেন, সরকার বা নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তথ্য পেতে প্রয়োজন বিকল্প তথ্য প্রবাহ ব্যবস্থা (অলটারনেটিভি মেথড অব ইনফরমেশন ফ্লো সিস্টেম)। কারণ সরকারও তার কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে তথ্য পায়। কিন্তু তা সব সময় সঠিক থাকে না বা সে তথ্যে কোন ধরনের জনসম্পৃক্ততা থাকে না। স্বাধীন গণমাধ্যম হচ্ছে তথ্য প্রবাহের সেই বিকল্প ব্যবস্থা।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এত আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের এত ভালো থিওরি থাকার পরেও সমাজতন্ত্র কার্যকর হতে পারেনি কেবল স্বাধীন গণমাধ্যম না থাকার কারণে।
তবে স্বাধীনতা চর্চার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল হতে হবে উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম বলেন, যতদিন মিডিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন থাকবে ততদিন মিডিয়ার বিকাশ সম্পূর্ণ হবে না।
সভাপতির বক্তব্যে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমালোচনা সহ্য করার মত মানসিকতা থাকতে হবে। সমালোচনার সুযোগ বন্ধ করলে গণতন্ত্র সৌন্দর্য হারাবে।
এছাড়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার নামে অনেকে যে দুর্বৃত্তায়ন করেন তা বন্ধে সরকারসহ সবাইকে সোচ্চার হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।
১৫তম এ ‘পাবলিক লেকচারের’ আয়োজন করে রিডিং ক্লাব ট্রাস্ট এবং জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন।








