বাংলাদেশের প্রায় ৭ শতাংশ পরিবারকে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ঋণ নিতে হয় বলে নতুন এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো।
১৪ ডিসেম্বর দুবাইয়ের রিওয়াইরড ফোরামে ইউনেস্কোর ২০২১-২২ গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্টে এমনই তথ্য উপস্থাপন করেছে এই সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শহুরে জীবন যাপনে ২০০০ সাল থেকে ১০ বছর অর্থাৎ ২০১০ সাল পর্যন্ত শিক্ষার খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। সেখানে ২০০০ সালে যেখানে ছিল প্রাইভেট টিউশন ফি ৪৮ শতাংশ থেকে উন্নীত হয়ে ২০১০ সালে ৬৭ শতাংশে পৌঁছেছে। যেখানে একই সময়ে গ্রামে ২৭ শতাংশ থেকে খরচ বেড়ে ৫৪ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার পেছনে ব্যয় বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যা কয়েক বছরে প্রায় চারগুণ।
পরিসংখ্যায় আরও দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী যেখানে প্রতি ছয় পরিবার তাদের সন্তানদের স্কুলের ফি পরিশোধের জন্য সঞ্চয় করে, সেখানে নিন্ম ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে ৮ শতাংশ (১২ জনের মধ্যে একটি পরিবার) পরিবার তাদের সন্তানদের স্কুলে যাওয়ার অর্থ পরিশোধ করতে ঋণের দ্বারস্থ হয়।
শুধু তাই নয় বিশ্বের আরও কিছু দেশ যেমন উগান্ডা, হাইতি, কেনিয়া এবং ফিলিপিন্সের মতো দেশগুলোতে ৩০ শতাংশ পরিবার তাদের সন্তানদের শিক্ষার খরচ বহন করতে ধার করতে হয়।
প্রতিবেদনটিতে, প্রাক- প্রাথমিক শিক্ষায় এক বছর এবং ১২ বছরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সবার জন্য বিনামূল্যে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারের প্রতি।
নতুন তথ্য দেখায় যে, শিক্ষার ব্যয় দরিদ্রতম দেশগুলিতে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিবারের ওপর পড়ছে। নিম্ন এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে, পরিবারগুলি শিক্ষার খরচের ৩৯ শতাংশ পূরণ করলেও উন্নত দেশে বাকি ব্যয় পূরণ করে সরকার।
শিক্ষার মোট খরচের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাংলাদেশের পরিবারগুলি বহন করতে হয়, যেখানে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ সরকার পূরণ করে।
২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ টি নিন্ম ও মধ্যম আয়ের দেশের খরচ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গড়ে প্রায় ৩.২ শতাংশ পরিবারের আর্থিক ব্যয় হচ্ছে শিক্ষা খাতে।
বেশিরভাগ খরচ স্কুল ইউনিফর্ম এবং অন্যান্য স্কুল সরবরাহ থেকে আসে। ১৫ টি নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশে পরিবারগুলি তার নিত্যব্যবহারের জন্য যে পরিমাণ খরচ করত তার প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ খরচ হচ্ছে শিক্ষায়।
গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্টের ডিরেক্টর মানোস আন্তোনিনিস বলেছেন, কোভিড-১৯-এর প্রভাবে পারিবারিক বাজেট আরও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলস্বরূপ অনেকেই স্কুলের খরচ বহন করতে পারে না। পরিবারগুলি যে পরিমাণ অর্থ প্রদান করছে সরকারকে অবশ্যই তা আরও ঘনিষ্ঠভাবে দেখতে হবে। সেইসব পরিবারে শিক্ষা নিশ্চিতে আরও কাজ করতে হবে।








