সারা দেশের ১০টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সকালে শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় এ বছর ১০টি শিক্ষা বোর্ডের ৩ হাজার ২শ’৩৬টি কেন্দ্রে ২৮ হাজার ৩শ’৪৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬শ’১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) শুরু হয়ে ২ মার্চ পরীক্ষা শেষ হবে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ৪ মার্চ শুরু হয়ে ১১ মার্চ শেষ হবে। পরীক্ষাসংক্রান্ত নতুন নিয়মে , প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে সকল পরীক্ষার্থীর কাছে হাতে খাতা দেয়া হয়েছে। এতে তারা প্রায় ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় পাচ্ছে।
মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯ লাখ ১০ হাজার ৫০১ জন ছাত্র ও ৮ লাখ ৭৬ হাজার ১১২ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। এ বছর গত বছরের চেয়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯০ জন পরীক্ষার্থী বেশি হওয়ায় ৯৩টি নতুন কেন্দ্রও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরমধ্যে বিদেশে ৪শ’৪৬জন পরীক্ষার্থীর জন্য ৮টি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছিলেন।
এ বছর নিয়মিত পরীক্ষার্থী হচ্ছে ১৬ লাখ ৭ হাজার ১২৪ জন। এছাড়া অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৯৮ জন ও বিশেষ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা (১, ২, ৩, ও ৪ বিষয়ে) ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৯৮ জন। এসএসসিতে ৭ লাখ ২ হাজার ২৯৯ জন ছাত্র ও ৭ লাখ ২৩ হাজার ৬০১জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেবে। ছাত্রের তুলনায় ছাত্রী ২১ হাজার ৩০২ জন বেশি। দাখিলে ছাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৮৫ জন ও ছাত্রী ১ লাখ ২৫ হাজার ৯১৬ জন এবং এসএসসি ভোকেশনালে ছাত্র ৭৭ হাজার ৬১৭জন ও ছাত্রী ২৬ হাজার ৫৯৫ জন ।
এবছর বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে ৪ লাখ ২২ হাজার ২শ’৮৭জন। অন্যদিকে এ বছর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কারিগরি শিক্ষা নামে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে।
একমাত্র কেন্দ্র সচিব ছাড়া আর কোন ব্যাক্তি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না বলে মন্ত্রী জানান। কেন্দ্র সচিবের অনুমতি ছাড়া কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে , দেশের বাইরে বিদেশে জেদ্দা, রিয়াদ, ত্রিপোলি, দোহা, আবুধাবী, দুবাই, বাহরাইন এবং ওমানের সাহামে ৮টি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে।
এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা ২য় পত্র এবং ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্র ছাড়া সকল বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রালপালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী স্ক্রাইব (শ্রুতি লেখক) সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। এ ধরনের পরীক্ষার্থীদের এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয় সে ব্যাপারে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ফেসবুকে কেউ প্রশ্নপত্র আপলোড করলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এব্যাপারে বিটিআরসিসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সাথে সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছিলেন।








