শুরু হতে যাচ্ছে বাঙালির প্রাণের মেলা একুশের বইমেলা। বাংলাদেশে বারোমাসে বিভিন্ন ধরণের মেলা চললেও এই মেলাকে ঘিরে তৈরি হয় এক অন্যরকম আবহ। পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সামনে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে চলবে এই মেলা।
শিল্পসাহিত্য চর্চার এক দালিলিক প্রকাশ এই মেলা। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক কয়েক হাজার নতুন বই প্রকাশ হয় জ্ঞানভিত্তিক এই মেলাতে। মেলাকে ঘিরে লেখক-পাঠক আর প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। প্রতিবারের মতো প্রধানমন্ত্রী এই মেলার উদ্বোধন করবেন।
আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে পুরো এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারীর পাশাপাশি র্যাব-পুলিশের টহল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও যে কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি রুখতে থাকবে সাইবার মনিটরিং। সব মিলিয়ে বেশ জোরালো প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে এই মেলায়।
মেলায় ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক যে কোন বই বিপনন নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়টি বিগত কয়েকবছর ধরেই আলোচিত হচ্ছে মেলা শুরুর আগে ও চলার সময়ে। কোন ধরণের বই, কার কাছে উস্কানিমূলক, এই বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ব্যখ্যা যদিও কেউ দাড় করাতে পারেনি এখন পর্যন্ত। মুক্তবুদ্ধি আর মুক্ত চিন্তায় এধরণের পদক্ষেপ কিছুটা বাধাগ্রস্ত করবে বলে আমাদের মনে হয়েছে। মেলা ঘিরে হাজারো প্রাণের মিলন ঘটবে।
কয়েকবছর আগে বইমেলায় ও মেলার বাইরে কয়েকজন প্রকাশক, ব্লগার ও বিজ্ঞানভিত্তিক লেখককে হত্যা করা হয়েছে। ওইসব ঘটনার পর থেকেই সেন্সর ও কড়াকড়ি ব্যবস্থা চলে আসছে। সেকারণে গত কয়েকবছর কোনো ধরণের নাশকতা হয়নি মেলাতে, এ বিষয়টি ইতিবাচক।
নানা ধর্ম-বর্ণ আর মতের মানুষদের নিয়ে আমাদের এই দেশ। তাদের চিন্তা ও প্রকাশের ক্ষেত্র এই মেলা যেন হয় শান্তিপূর্ণ ও বাধাহীন। আশা করি সংশ্লিষ্টরা বিষয়গুলো নজরে এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।








