আইন ও বিচার বিভাগের উন্নয়নে একটি স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি অনেকদিনের। আগে অন্যরা আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও এবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন স্বয়ং প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
তিনি বলেছেন: ‘আমি দেশের জ্ঞানতাপস ও ধনাঢ্য আইনজ্ঞদের কাছে নিবেদন করব তারা যেন আমাদের প্রতিবেশী দেশের আদলে অন্তত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন যা আইন শিক্ষার গুণগত মান ও গবেষণার বিস্তৃতিকে আরো সমৃদ্ধ করবে। যারা এমনটা করবেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের যারা আইনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করবে তাদের কাছে তারা প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’
দেশে এখন কয়েকটি পাবলিক, সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগ রয়েছে। এছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আইন মহাবিদ্যালয় রয়েছে। কয়েক বছর আগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের গবেষণায় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ শিক্ষক-গবেষক, মানসম্পন্ন মৌলিক গবেষণা ও প্রকাশনার ঘাটতির বিষয়গুলো উঠে এসেছিল। অথচ মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ থাকলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আইনজীবী তৈরি করা সম্ভব।
প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যে প্রতিবেশি দেশের মতো অন্তত একটি আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিকে তাকালেও দেখা যায়- নয়াদিল্লি, বিশাখাপট্টনম, হায়দরাবাদ, পাটনা, রায়পুর, গান্ধীনগর, বেঙ্গালুরু, কোচিন, ভূপাল, পুনে, চণ্ডীগড়, মাদ্রাজ, কলকাতা ও অন্যান্য শহরে প্রায় ২৫-৩০টি আইন বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এগুলো স্বাভাবিকভাবেই মানসম্মত শিক্ষা দিয়ে আসছে। এছাড়া বাংলাদেশেও বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশে স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি অযৌক্তিক নয়।
আমরা মনে করি, এমন বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে প্রথমে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সরকারের একার পক্ষে অনেক কিছু করা সম্ভব নয়। তাই প্রধান বিচারপতি দেশের জ্ঞানতাপস ও ধনাঢ্য আইনজ্ঞদের কাছে এ বিষয়ে নিবেদন করেছেন। প্রধান বিচারপতির এ নিবেদনে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলসহ জ্ঞানতাপস ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরা যার যার অবস্থান থেকে সাড়া দেবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।







