চালকদের বেপরোয়া গতি আর দায়িত্বহীনতায় কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনা এবং তাকে কেন্দ্র করে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার পর সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। তিনি রাজধানী ঢাকার সড়কে ট্রাফিক আইন না মেনে পথচারীদের পারাপারের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘রাস্তায় চলার নিয়ম আছে, সেটা আমরা কতটা মানি? একটা গাড়ি দ্রুতগতিতে আসছে, আমরা হাত একটা তুলে রাস্তায় নেমে গেলাম। যারা পথচারী, তাদেরও কিছু রুলস জানা দরকার, মানা দরকার।’
সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যার হাত গেল, তার জন্য কান্নাকাটি করছেন; কিন্তু সে যে নিয়ম মানছে না, সে কথা তো বলছেন না। আপনি বাসে চড়ে যাচ্ছেন, কেন আপনি হাত বের করে যাবেন?
কয়েকটি দেশ সফর শেষে বুধবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে যখন সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; ঠিক তার দুইদিন আগে এই বছরের প্রথম চার মাসে সারাদেশে ঘটা সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা সংস্থাটি বলছে, জানুয়ারী থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ১ হাজার ৮৭১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২ হাজার ১২৩ জন মানুষ। আহত হয়েছে ৫ হাজার ৫৫৮ জন। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দুর্ঘটনার হার, নিহত এবং আহতের সংখ্যা সবই বেড়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করছে, এত এত আলোচনা-সমালোচনার পরও কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হচ্ছে, চালকরা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এর অবশ্য কারণও আছে; তাদের নিয়ন্ত্রণ করার কেউ নেই।
আমরা জানি, দুই বাসের মধ্যে চাপা পড়ে হাত হারানো কলেজছাত্র রাজীব হোসেন আর বাসের চাপায় ডান পা হারান গৃহকর্মী রোজিনার মৃত্যুর পর সারাদেশে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। গোপালগঞ্জের বাসের হেলপার হৃদয়, বগুড়ার শেরপুরে ট্রাক চাপায় হাত হারানো শিশু সুমি কিংবা রাজধানীতে বাসচাপায় পা হারানো রাসেল সরকারের ঘটনাও সেই আলোচনা-সমালোচনায় গতি এনে দেয়।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই ঘটনাগুলোর পেছনে চালকদের অসতর্কতাকেই দায়ী করা হয়েছে। তবে অনেকক্ষেত্রেই ঘটনার শিকার ব্যক্তিরও দায় থাকে। বিশেষ করে অনেকেই মহাসড়কগুলোতে যেভাবে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হন; তাতে দুর্ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক নয়।
প্রধানমন্ত্রী রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি এ নিয়ে সচেতন হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন। আমরাও তার সাথে একমত পোষণ করি। কিন্তু এটাও বাস্তব, রাজধানীর সড়কে পথচারী পারাপারে খুব কম স্থানেই জেব্রা ক্রসিং রয়েছে। আর যেসব স্থানে তা আছে; সেখানেও চালকরা কতটা সতর্ক, কতজন চালক সেটার মানে বোঝেন– তা নিয়েও আমাদের প্রশ্ন আছে। আর দখল হয়ে যাওয়া ফুটপাতের কথা, নতুন করে না হয় নাই বলছি।
আমরা মনে করি, এককভাবে কোনো পক্ষের ওপর দায় না চাপিয়ে, জনসচেতনতার পাশাপাশি পরিবহন খাতের পুরো অব্যবস্থাপনা, নৈরাজ্য নিরসনেও উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী নিজে সিট বেল্ট বেঁধে চলেন জানিয়ে আমাদেরকে সতর্ক হওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন, আমরা কি তা শুনবো?








