বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারী জাসদকে সরকার তথ্যমন্ত্রী করেছে আর আগামীতে গুপ্ত হত্যাকারীদের সংসদে এনে বসাবেন বলে সংসদে মন্তব্য করেছে জাতীয় পার্টি। আগামী নির্বাচন শেখ হাসিনাবিহীন করার বক্তব্য দেয়ার অপরাধে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেবার দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম।
সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনে বাজেট বক্তব্য ছাড়া পয়েন্ট অব অর্ডারে সংসদ সদস্যদের কিছু বলার সুযোগ খুব কম থাকে। তবে অধিবেশন শুরুর কিছু পরই জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ ফ্লোর চাইলে পয়েন্ট অব অর্ডারের সুযোগ নেই বলে জানান, ডেপুটি স্পীকার ফজলে রাব্বী মিয়া। তারপরও কয়েক মিনিট কথা বলেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ।
তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় পার্টির কোন সদস্যকে বিটিভি দেখায় না।
এসময় ডেপুটি স্পিকারকে উদ্দেশ করে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘টেলিভিশনে আপনাকে এবং সরকারি দলকে বেশি দেখায়। কারণ হলো, তথ্যমন্ত্রী জাসদ। আমরা ছাত্রলীগ করতাম। একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, এক বিছানা থেকে উঠে এসে উনি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছেন। গুণে গুণে আমাদের ২০ লাখ লোককে হত্যা করল। সেদিন গণবাহিনী গঠন করে বেছে বেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যা না করলে দেশের দুর্দিন হতো না। বঙ্গবন্ধুর মতো এত বড় জাতীয় নেতাকে আমরা হারাতাম না। সে জন্য জাতি আজ পর্যন্ত ভুগছে।’
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীকে তথ্যমন্ত্রী বানানো হয়েছে ভবিষ্যতে গুপ্ত হত্যাকারীদের সংসদে আনবেন বলে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তো নীলকণ্ঠ। বিষ খেয়ে হজম করতে পারেন। উনি সমস্ত বিষ খেয়ে হজম করে…জাসদ আজ সংসদে আছে। আমার মনে হয়, ভবিষ্যতে…এখন যারা গুপ্তহত্যা করছে তাদেরও উনি সংসদে নিয়ে আসবেন।’
সোমবার জাসদ বিষয়ে দেওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য যথার্থ বলেও মন্তব্য করেন ফিরোজ রশীদ।
তিনি বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফ যথার্থ বলেছেন। এই ইনু সাহেবরা জাসদ করে…সংসদে ঢুকে এসব করছে।’ তবে তার এসব বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করে দেন ডেপুটি স্পীকার।
পরে বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখেন শেখ সেলিম। সে সময় তিনি আওয়ামী লীগ ধ্বংসে পাকিস্তানের নীল নকশা বাস্তবায়নে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালদা জিয়ার সমালোচনা করেন। দেশে কোন আইএস এবং আল-কায়েদাসহ কোনো জাঙ্গ নেই উল্লেখ করে আমেরিকাকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলাতে সর্তক করেন।
এর আগে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠ ভোটে নেভি অ্যামেনমেন্ট বিল পাশ হয় সংসদে।







