সকালে যে ছেলেটা লাইন আর লেন্থে বাজিমাত করলেন, লাঞ্চের পর তাকেই ছন্নছাড়া মনে হল। তিনি তাসকিন আহমেদ বলেই আশাটা আরেকটু বেশি ছিল। কামরুল ইসলাম রাব্বি একটা সময় ফুলটস আর লুজ বল করে গেলেন। শর্টপিচও বাদ যায়নি। অনেকটা চোখে লাগার মত সবুজ থাকা উইকেটে এমন বোলিং এলোমেলোই লাগল। মাঝখান দিয়ে চেতেশ্বর পূজারা এবং মুরালি বিজয় শত রানের জুটি পেরিয়ে গেলেন। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা সেই জুটিকে থামাতে ত্রাণকর্তা হয়ে এলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
চা বিরতি পর্যন্ত দুই উইকেট হারিয়ে ২০৬ রান তুলেছে ভারত। দ্বিতীয় সেশনে স্বাগতিকরা ৩১ ওভার খেলে ১২০ রান সংগ্রহ করে। শুরুতে যে বিজয় নড়বড়ে ছিলেন এখন তিনি শতক হাঁকানোর পথে। ৯৮ রানে অপরাজিত এই ওপেনার। সঙ্গী বিরাট কোহলি ১৭ রানে। ৮৩ রান করা পূজারাকে মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে ফিরিয়েছেন অফস্পিনার মিরাজ।
ক্যাচ মিস হলে বোলারদের মানসিক শক্তি কমে যায়। ক্রিকেটের এই চিরায়ত প্রথা এদিনও সত্যি হলো। রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে মিরাজের বলে সাকিব দুইবার বিজয়ের ক্যাচ ছাড়ার পর অন্যদের শরীরী ভাষায় সেই ঝাঁজটা খুঁজে পাওয়া গেল না।
তাসকিন একমাত্র উইকেটটি পান ইনিংসের প্রথম ওভারে। চতুর্থ ডেলিভারিটি অফস্ট্যাম্পের অনেক বাইরে ছিল। ব্যাট ছোঁয়াতে যেয়ে কানায় লাগান লোকেশ রাহুল (২)। ব্যাটের ফেস অন সাইডে ছিল। বল কানা ছুঁয়ে পায়ে লেগে স্ট্যাম্পে চলে যায়।
পেসারদের পাশাপাশি স্পিনারদেরও এদিন গোছানো মনে হচ্ছে না। তাইজুল কয়েকটা বলে টার্ন পেলেও ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করতে পারেননি। মিরাজেরও একই অবস্থা।
শুরুতে আবার তিনি বিজয়কে আউট করার সুযোগ হাতছাড়া করেন। ২০ ওভারের আগে বিজয় একবার তার বলে স্কয়ার লেগে পুশ করেন। ওখানে ছিলেন কামরুল। ডাইভ দিয়ে বলের দখল নেন। ননস্ট্রাইক থেকে রানের জন্য ছোটেন পূজারা। বিজয় তখনো ঠায় দাঁড়িয়ে। কামরুল ঠিকমতো মেহেদীকে ‘থ্রো’ করেন। বল হাতে নিতে ব্যর্থ হন তরুণ তারকা। হাফ ছেড়ে বেঁচে নিজের জায়গায় ফিরে আসেন পূজারা।








