আজ ছিল ২৫তম আন্তর্জাতিক ও ১৮তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস। এ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটালেন, টেলিভিশনে দেখে আমরা মুগ্ধ! অনুষ্ঠানের বক্তৃতায়, স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্যও শিক্ষার সুযোগ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিবন্ধী শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাইকে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনতে জীবনচক্রভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রতিটি স্কুলে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা অর্জনের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী যাতে আর দশটা স্বাভাবিক শিশুর সঙ্গে মিশে তারা শিক্ষা লাভ করে সমাজের মূল ধারায় সম্পৃক্ত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য পথ প্রশস্ত করতে কর্পোরেট সেক্টর এবং সমাজের বিত্তবান মানুষসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনটি ক্যাটাগরিতে ৯ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মাঝে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করেন সরকার প্রধান। সুখের বিষয় হচ্ছে, বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানোর মাধ্যমেই সরকার প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে দায়িত্ব শেষ করেনি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সংরক্ষণে ২০০৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬১তম অধিবেশনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদ অনুমোদিত হয়। বাংলাদেশ এ সনদে সই করার পাশাপাশি ঐচ্ছিক প্রটোকলসমূহে অনুসমর্থন করে। এরই ধারাবাহিকতায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ও ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিবন্ধীবান্ধব বর্তমান সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধানীন সমাজসেবা অধিদফতর, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট প্রতিবন্ধীদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের ‘প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ কর্মসূচির’ আওতায় গত অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রতিবন্ধীরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে জরিপভুক্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ১৪ লাখ ৮২ হাজার ৭১৬ জন। জাতিসংঘ শিশু তহবিল-ইউনিসেফ এর সহায়তায় এ পর্যন্ত জরিপে অন্তর্ভুক্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত প্রতিবন্ধিকতা বিষয়ক কার্যক্রমে রয়েছে শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সরকারি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, সরকারি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম, ব্রেইল প্রেস, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান, প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের জন্য কারিগরী প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, কৃত্রিম অঙ্গ উৎপাদন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধীদের জন্য সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম, প্রতিবন্ধিতা সনাক্তকরণ জরিপ কর্মসূচি। ৬৪ টি জেলা ও ৩৯টি উপজেলায় সর্বমোট ১০৩ টি প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগও লক্ষ্য করা যায়। তবে সমাজের মূল ধারায় প্রতিবন্ধীদের সংযুক্ত করতে কাঙ্খিত লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি। এখনো তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। তারা এখনো জনবিচ্ছিন্ন মানবেতর জীবন যাপন করছে। প্রধানমন্ত্রীর মতো বিশেষ মানবিক দৃষ্টি দিয়ে কর্পোরেট সেক্টর এবং সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি এগিয়ে আসেন তাহলে প্রতিবন্ধীরা অনেক সহজেই সক্ষম মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে বলে আশা করা যায়।







