প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন, প্রচলিত আইন দিয়ে তনু হত্যার তদন্ত সম্ভব নয়, এই জন্য প্রয়োজন আইন পরিবর্তনের। আইনের সংস্কার ও আইন কমিশনে রচিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেছেন, জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের বিষয়ে ভালো আলোচনা হয় না, তাই ভালো আইন না পাওয়ার আক্ষেপ তার। বিচারকার্য পরিচালনা যে আইনে হয় সে বিষয়ে কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।
বলেন, আইনগুলো যেসব প্রণয়ন করা হয়, যে উদ্দেশ্যে হয় সেটা পূরণ হয়না। আমরা যখন পার্লামেন্টারি ডিবেট নিয়ে আসি আইনের উদ্দেশ্য অনুধাবন করার জন্য, আমরা কিছুই পাই না। আজকে আমাদের আইন বিষয়ে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা। আইনপ্রণেতাদের অজ্ঞতা থাকলে লেখাপড়া করে হলেও একটু বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
কুমিল্লায় মেধাবী ছাত্রী তনু হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে নিজের ব্যাখ্যা দেন তিনি। বলেন, কুমিল্লায় এটা অপরাধ হয়েছে। এটা আপনি ১৮৯৮ সালের ক্রিমিনাল প্রসিডিওর কোর্ট দিয়ে তদন্ত করতে পারবেন না। এটা নতুন ডিজিটালাইজ ওয়েতে নতুন পন্থায় এটার ইনভেস্টিগেশন করতে হবে। আমরা যতই মিটিং-মিছিল করি, আমাদের, আমাদের পুলিশ অফিসারদের যে মানসিকতা সেসব দিয়ে এটা ডিটেক্ট করা যাবে না। সাংবাদিক দম্পতি যেমন ডিটেক্ট করা যায়নি তেমনই যাবে না।
২০ মার্চ সকালে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী
সোহাগী জাহান তনুর (২০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে
ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
তনু হত্যাকাণ্ডে কেউ আটক না হলেও ছায়া
তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে র্যাব ও সিআইডি।
তদন্তকাজে সাহায্যের ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রাথমিকভাবে তনুর
পরিবারের সদস্যসহ সন্দেহভাজন ১৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র্যাব। বর্তমানে
তনু হত্যার মামলার তদন্ত দায়িত্ব গোয়েন্দা পুলিশের উপর দেওয়া হয়েছে।
প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার বাইরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কঠোর সমালোচনা করেন প্রধান বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতি বলেছেন, আইনের সংশোধন দরকার তা না হলে প্রকৃত বিচার পাওয়া যাবে না। পেলেও তা হবে প্রতারণা। তারপরও এই বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, এই ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেলে জনগণের যাবার জায়গা থাকবে না।
আইনের সংস্কার ও আইন কমিশনে
রচিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি আরো বলেছেন, জাতীয় সংসদে আইন
প্রণয়নের বিষয়ে কথা হয় কম, তাই নতুন নতুন আইন প্রণয়ন হচ্ছে কম।
এ নিয়ে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ইউজিসির চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, প্রফেসর ডক্টর আবুল বারকাতসহ বিশিষ্টজনরা।








