ব-দ্বীপ প্রকাশনীর প্রকাশক শামসুজ্জোহা মানিকসহ তিনজনের গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রকাশক সমাজ। এ ঘটনাকে ন্যক্কারজনক এবং আগামীতে মুক্তমত প্রকাশের পথে বাধা হিসেবে দেখছেন তারা।
গ্রেপ্তারের ঘটনাকে প্রকাশক সমাজের জন্য বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন তাম্রলিপি প্রকাশনীর প্রকাশক এ কে এম তরিকুল ইসলাম রনি। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, প্রকাশক একটি সম্মানজনক পেশা, রুচিবান লোকেরাই এ পেশায় এসে থাকে। সেই জায়গা থেকে আমি বলবো সমাজের এ স্তরের লোকে এভাবে গ্রেপ্তার করা নৈতিকতা বিরোধী। তাকে আইনি নোটিশ দিলেই এমনিতেই আদালতে হাজির হতেন। দেশে যেহেতু এখনও আইনের শাসন রয়েছে; আইনি ভাবেই তাকে মোকাবেলা করার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিলো। এটা প্রকাশক সমাজের জন্য বড় আঘাত।
এক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির দায়িত্বশীলতার অভাবকেই বড় করে দেখছেন শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশক রবীন আহসান। তিনি বলেন, এর মতো বাজে এবং ন্যক্কারজন কাজ আর হতে পারে বলে আমি মনে করি না। সভ্য সমাজে যে এমন ঘটনা ঘটতে পারে সেটা দেখিয়ে দিলো বাংলা একাডেমি।
প্রকাশক: তরিকুল ইসলাম রনি প্রকাশক: রবীন আহসান
একাডেমি আমাদের সুরক্ষা দেবে কি! তারাই পুলিশ ডেকে প্রকাশকের মাজায় দড়ি বাঁধছে। এর প্রভাব আগামীতে পড়বে।
তবে বই প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রকাশকদের আরও বেশি দায়িত্ববান হওয়ার পরামর্শ তরিকুল ইসলাম রনি’র।
তিনি বলেন, একজন প্রকাশকের সব সময়ের দায়িত্ব ভালো ভাবে জেনে লেখা প্রকাশ করা। দায়িত্ব বোধের অভাব এখানে গ্রহণযোগ্য নয়। একজন প্রকাশককে সব সময় এমন বই প্রকাশ করতে সচেষ্ট থাকতে হয় যা কিনা মুক্তচিন্তা-স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এমন কোনো লেখা প্রকাশ করা উচিত নয় যেটি ধর্মীয় চেতনায় আঘাত হানে। সেটা যে ধর্মই হোক; ইসলাম-হিন্দু কিংবা খ্রিষ্টান।
গত দুই বছর ধরে বাংলা একাডেমি লেখক প্রকাশকদের প্রতি যে ধরণের আচরণ করছে তা মেনে নেওয়া যায় না উল্লেখ করে রবীন আহসান বলেন, ফেসবুকে কে কি লিখলো, আপনি তা যাচাই না করেই স্টল বন্ধ করে দিচ্ছেন। মেলা প্রাঙ্গণ থেকে প্রকাশককে গ্রেপ্তার করাচ্ছেন। মেলার বাইরে লেখক-প্রকাশক হত্যার শিকার হচ্ছে। এর ফলে আগামীতে নয় এখনই লেখক প্রকাশকরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে মেলায় আসতে পারবেন না। তাছাড়া শামসুজ্জোহা শুধু একজন প্রকাশকই নন, তিনি লেখকও।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তুহিন মালিককে জঙ্গিবাদের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক এবং উষ্কানিদাতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার (তুহিন মালিক) মতো লোকেরা জঙ্গিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা করে চলেছেন। এদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বাংলা একাডেমি ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। এভাবে হতে থাকলে আগামীতে বাংলাদেশ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে।
যাদের স্ট্যাটাসের ওপর ভিত্তি করে ব-দ্বীপ প্রকাশনী’র স্টল বইমেলা প্রাঙ্গণ থেকে বন্ধ এবং প্রকাশক শামসুজ্জোহা মানিকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তুহিন মালিক তাদের অন্যতম।
আইনজীবী: খুরশীদ আলম আইনজীবী: তুহিন মালিক
প্রযুক্তি আইনে মামলা হওয়া বিশিষ্ট আইনজীবী খুরশিদ আলম বলেন, বই প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা হতে পারে না। তবে বইটির অনলাইন সংস্করণ থাকায় এ মামলা করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেফতারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একাত্তরের ঘাতক
দালাল নির্মূল কমিটি বলেছে, কোনো বইয়ে যদি ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা’র
মতো কোনো বিষয় থাকে পুলিশ বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদালতে যেতে পারেন। কেননা
সেটি আদালতের বিচার্য বিষয়। পুলিশ এভাবে গ্রেপ্তার করতে পারে না।
পুলিশ জামায়াত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে বলেও অভিযোগ করা হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।
সোমবার ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত একটি বই নিয়ে আপত্তি ওঠায় বইটির
প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান ব-দ্বীপের স্টল বন্ধ করে দেয় মেলা বাংলা একাডেমি। রাতে তার প্রকাশক শামসুজ্জোহা মানিক, সম্পাদক শামসুল আলম ও ছাপাখানার মালিক ফকির
তসলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার তাদেরকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চায় শাহবাগ থানা পুলিশ। পরে
প্রকাশককে ৫ দিন, ছাপাখানার মালিককে ২ দিন এবং সম্পাদককে ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।






