সরকারি কর্মসৃজন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের দায়ে দুদকের মামলায় আট দিন জেল হাজতে থাকার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিন পেয়েছেন ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জানে আলম।
জামিন পেয়ে কর্মীদের কাছ থেকে পেয়েছেন ফুলেল সংবর্ধনা। তবে সাধারণ মানুষ এমন সংবর্ধনা মেনে নিতে পারছেন না। তারা বলছেন সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে জেলে যাবার পরও এমন সংবর্ধনা।
বৃহস্পতিবার ২১ এপ্রিল সকালে কারামুক্ত হয়ে তিনি এলাকায় পৌঁছলে ফটিকছড়ির বিবিরহাট উৎসব কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে কয়েক’শ মোটর সাইকেল নিয়ে তার কর্মীসমর্থকেরা বরণ করে নেন।
ইউপি চেয়ারম্যানের এমন বড় আকারের সংবর্ধনা নিয়ে ফটিকছড়ি উপজেলার জনৈক বলেন: সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলে যাওয়ার তকমা লাগালেও ফুলেল সংবর্ধনা চেয়ারম্যান কিভাবে নিলেন? আমরা সাধারণ মানুষ বিব্রত।
গত ১২ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আজিজ আহমেদ ভুঁইয়া শুনানি শেষে চেয়ারম্যান মো. জানে আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার শুনানিতে রাষ্ট্র পক্ষে অংশ নিয়েছিলেন দুদকের পিপি অ্যাড. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
মামলা দায়েরের পর চেয়ারম্যান জানে আলম উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছিলেন। উচ্চ আদালতের দেয়া আগাম জামিনের সময়সীমা শেষ হওয়ায় চেয়ারম্যান জানে আলম নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে মঙ্গলবার ১৯ এপ্রিল উচ্চ আদালত তাকে জামিন দেন।
এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানে আলমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এ মামলাটি দায়ের করেন কার্যালয়টির সহকারী পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম।
মামলার আসামিরা হলেন, দাঁতমারা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জানে আলম, ফটিকছড়ির কৃষি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আজিজুল হক, একই ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা সুজিত কুমার নাথ, ক্যাশিয়ার আবুল কাশেম ও তৎকালীন ট্যাগ অফিসার প্রণবেশ মহাজন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ১ম ও ২য় পর্যায়ের মোট ৮০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের দৈনিক ২০০ টাকা মজুরি হারে ৪১ জন শ্রমিকের ৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রকল্পে ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।
তারা কেউই শ্রমিক নয় এবং সকলেই স্বাবলম্বী। তাদের মধ্যে স্কুল প্রধান শিক্ষক, পুলিশ সদস্য, গ্রাম পুলিশ, প্রবাসী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ছিল। তারা কখনো কৃষি ব্যাংকে যান নাই কিংবা হিসাব খোলেননি এবং টাকাও উত্তোলন করেননি।
এরপর ২০২০ সালে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন তদন্ত করে ৪১ জন শ্রমিকের অর্থ আত্মসাতের দালিলিক প্রমাণ পাওয়ায় চেয়ারম্যানসহ বাকিদের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে দুদক কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেন।









