‘নিজের জন্মভূমিতে সরাসরি যেতে পারিনা। প্রথমে জর্দান যেতে হয়। তারপর ৩টি চেকপোস্ট পেরিয়ে আমার প্রিয় প্যালেস্টাইন। এই চেকপোস্টে যে কোন সময় বন্দী হতে পারি। গুলিতে মরে পড়ে থাকতে পারি।’ ৪৫ বছরের ইমতিয়াজ আলমগ্রাবের কণ্ঠে বিপন্নতা আর অসহায়ত্বের ছায়া। তার অনুভবে অবরুদ্ধ জন্মভূমি আর জীবনের উপলব্ধি।
রামাল্লা এবং আল আকসা মসজিদ। নামগুলো অন্তত এ দেশের মানুষের অতি পরিচিত। দখলদার ইসরাইলে অবরুদ্ধ প্যালেস্টাইন এর শহর এবং পবিত্র মসজিদ। ইয়াসির আরাফাতের প্যালেস্টাইন। পিএলও বা হামাসের প্যালেস্টাইন। চার দশকের মুক্তিসংগ্রামী প্যালেস্টাইনের প্রতিনিধি ইমতিয়াজ। বন্দী শিবিরের মধ্যে থেকে জীবন বাঁজি রেখে তুলে আনা ইসরাইলি অপরাধের প্রামাণ্য নির্মাতা।
‘ওরা আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। আমরা লড়ছি। রক্ত দিয়ে যেমন লড়ছি তেমনি সেলুলয়েড লড়াই করছি। আমাদের আল আকসাকে ঘিরে রেখেছে ইসরাইল অন্যায়ভাবে। আমাদের আল আকসা। রমজানের সময় খুলে দেয়। সে একমাসে ঢুকেছি। বন্দী অবস্থাতেও নানা কায়দায় ঢুকে দৃশ্যগ্রহণ করেছি। হ্যান্ডিক্যামে। নিজেই করেছি চলচ্চিত্রের সম্পাদনা। মাঠের লড়াইয়ের সঙ্গে এরকম ডকুমেন্টেশনও লড়াই বলে আমি মনে করি।’
ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মঙ্গলবার ‘উওমেনস ফিল্ম মেকার সেকশন’ এ সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে সর্বশেষ ছবি হিসেবে প্রদর্শিত হবে ১৬ মিনিটের চলচ্চিত্র ‘ডিটেনশন’। নির্মাতার প্রথম নির্মাণ এটি। এখানেই হচ্ছে চলচ্চিত্রটির প্রিমিয়ার। তারপর ছবি নিয়ে যাবেন মিশরে এবং ফ্রান্সে। 
চলচ্চিত্রটিতে আল আকসায় প্রবেশে ইলেকট্রনিক গেট দেওয়ার সময়কালীন ১৩ রক্তাক্তদিন, গেট দেওয়ার আগে এবং বাধ্য হয়ে গেট সরিয়ে নেওয়ার মুহূর্ত উঠে এসেছে এ চলচ্চিত্রে।
ছোটখাট নারীটিকে উৎসবের প্রথম দিন থেকে সপ্রতিভ ছোটাছুটিতে দেখা গেছে। প্রতিদিনই একাধিক ছবি দেখছেন। অংশ নিয়েছেন নারী সিনেমা বিষয়ক ৬টি সেমিনারের সবগুলোতে। প্রথমবারের মত বাংলাদেশে এসছেন ঠিকই। তবে বাংলাদেশের কথা জানেন আগে থেকেই। জানান, বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা রয়েছে প্রতিটি প্যালেস্টাইনির। তাদের এও জানা আছে প্যালেস্টাইনিদের হয়ে অনেক বাংলাদেশীর আশির দশকে ইসরাইলিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা। তারা জানেন অন্যায় ভাবে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে আমেরিকার ঘোষণা বাংলাদেশ সমর্থন করেনি জাতিসংঘে।
উৎসব পুরোটা শেষ করে তবে বাংলাদেশ ছাড়বেন ইমতিয়াজ। কিন্তু মাত্র তিনদিনে প্রেমে পড়ে গেছেন বাংলাদেশের। এদেশের খাবার, ট্রাফিক জ্যাম আর মানুষের। সুযোগ পেলে আবারো আসবেন বাংলাদেশে। স্বপ্ন দেখেন আগামীতে মুক্ত প্যালেস্টাইনের নাগরিক হিসেবে আসবেন এদেশে। মরলেও মরতে চান মুক্ত স্বদেশে। অথবা স্বদেশের মুক্তির জন্য মৃত্যুতেও শান্তি তার।







