শুক্রবার প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে ১শ’ ২৯জন। আহত সাড়ে তিনশ’র বেশি। আর ওই হামলায় অংশ নেয় তিনটি সন্ত্রাসী দল। অংশ নেয়া আট সন্ত্রাসীর সবাই নিহত হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে ফরাসী কর্তৃপক্ষ।
ভালোবাসার নগরী প্যারিসকে রক্তে রঞ্জিত করা শুক্রবারের নারকীয় হত্যাকাণ্ডে তিনটি সশস্ত্র দল অংশ নেয় বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের তদন্তকারীরা। সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রাণহানি হওয়া বাটাক্লাঁ কনসার্ট হলে হামলাকারীর পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ। হামলাকারী প্যারিসেরই এক শহরতলির বাসিন্দা। জাতীয় স্টেডিয়াম স্তাদে দি ফ্রান্সে হামলাকারীরা মিশর ও সিরিয়ার পাসপোর্টধারী ছিল বলে জানা গেছে।
প্রসিকিউটর ফাঁসোয়া মলিনোস জানিয়েছেন, তারা কিভাবে এবং কোনখান থেকে এসেছে, তাদের কারা অর্থ দিয়েছে, সেগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
হামলার পরে ফ্রান্স তার সমস্ত সীমান্ত বন্ধ করে দিলেও শনিবার ভোরে তিনজন ফরাসী নাগরিককে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় গ্রেফতার করেছে বেলজিয়াম পুলিশ। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মাইকেল বলেছেন, প্যারিস হামলার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা আছে কিনা সেটা যাচাই করছে বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ।
জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস দায় স্বীকারের পরে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভাইস বলেছেন, সিরিয়ায় আইএস-এর বিরুদ্ধে তাদের বিমান হামলা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ফ্রান্স ও তার জনগণ এখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আছে। সন্ত্রাসীদেরকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ধ্বংস করা হবে এবং এই যুদ্ধে ফ্রান্স বিজয়ী হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ফরাসী প্রধানমন্ত্রী।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে প্রথমবারের মত প্যারিসে কার্ফ্যু জারি করে আড়াই হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আইফেল টাওয়ারও।







