পৌর নির্বাচনে এ পর্যন্ত ভোট গণনায় আওয়ামী লীগ এগিয়ে আছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ভোটে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১৪৫ জন পৌর মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গণনা শেষে গোপালগঞ্জের টুংগিপাড়ার আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী শেখ আহমেদ হোসেন মির্জা, চাঁদপুরের ছেংগারচরের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জজ এবং কুষ্টিয়া’র খোকসার আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তারিকুল হক বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
টাঙ্গাইল জেলা
টাঙ্গাইলের আটটি পৌরসভার মধ্যে সবগুলোরই বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল চ্যানেলআই অনলাইনের কাছে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র কালিহাতি পৌরসভাতেই বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি সাতটিতেই নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী। সখিপুর পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী পুননির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন এবং গোপালপুর পৌরসভার বিএনপির প্রার্থী ‘ব্যাপক জালভোট প্রদানের’ অভিযোগ তুলে দুপুরে নির্বাচন বর্জন ঘোষণা করেন।
সখিপুর পৌরসভায় ৯ হাজার ৬৮২টি ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু হানিফ আজাদ। হানিফের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জগ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সানোয়ার হোসেন সজীব পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৯৯ টি ভোট। নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে সজীব পুননির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।
মির্জাপুর পৌরসভাতেও নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী শাহাদত হোসেন সুমন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। শাহাদত হোসেন পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৮৪টি ভোট। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী হযরত আলী পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৩১ টি ভোট।
‘জালভোট প্রদানের অভিযোগ’ উঠা গোপালপুর পৌরসভাতেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী রকিবুল হক সানা ২১ হাজার ৫২৪ টি ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ‘ব্যাপক কারচুপির’ অভিযোগ তুলে এই পৌরসভার বিএনপির প্রার্থী খন্দকার জাহাঙ্গির আলম রুবেল দুপুর একটার দিকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা করে।
ধনবাড়ী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন ১১ হাজার ৩৯৩টি ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এম এ সোবহান পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৪টি ভোট।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ভুঞাপুর পৌরসভা নির্বাচনে মাত্র ১৭৬ টি ভোটে ব্যবধানে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মাসুদুল হক মাসুদ। ৫ হাজার ৪৭১টি ভোট পান তিনি। বিএনপির আব্দুল খালেক মন্ডল ৫ হাজার ২৯৫ টি ভোট পেয়েছেন।
মধুপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মাসুদ পারভেজ বিশাল জয় পেয়েছেন। ২২ হাজার ২৫৮টি ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সরকার শহীদ পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৫৩টি ভোট।
টাঙ্গাইল জেলার একমাত্র কালিহাতি পৌরসভাতেই বেসরকারীভাবে বিএনপির মেয়র প্রার্থী জয় লাভ করেছেন। ধানের শীষ প্রতীকের আলী আকবর জব্বার ৯ হাজার ৪৪৮ টি ভোট পান। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনসার আলী বিকম পেয়েছেন ৭ হাজার ৫১৮ টি ভোট।
টাঙ্গাইল সদরে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের জামিলুর রহমান মিরন ৪৯ হাজার ৫৭৩ টি ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহমুদুল হক সানু পেয়েছেন ২৪ হাজার ৬৪২টি ভোট।
সারা দেশে পৌরসভায় কড়া নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৮টায়। কোনো বিরতি ছাড়াই ভোট গ্রহণ চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। প্রথমবারের মতো পৌর মেয়র পদে চলছে নৌকা ও ধানের শীষের ভোট লড়াই। পছন্দের প্রার্থী নির্বাচনে শীতের সকাল থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ছিলো ভোটারদের দীর্ঘ লাইন।
বেশিরভাগ জায়গাতেই উৎসবের আমেজে চলছে ভোটাভুটি হয়।






