আইসিসির টেস্ট লিগ থেকে বাদ পড়ার অপমান তাদের হজম করতে হচ্ছে। কেউ খেলতে চায় না, সেই জ্বালা তো দীর্ঘদিনের সঙ্গী। ক্রিকেট শক্তিতে যে দেশটি একসময় ভারত, অস্ট্রেলিয়াকে টেক্কা দিত, সেই তারা ৯ বছর পর বিদেশের মাটিতে সিরিজ জিতল! বর্তমানের বুকে অতীতের চিহ্ন ফিরিয়ে আনার পর দলপতি ক্রেমার মাঠ ছাড়ার সময় বলে গেলেন, এই জয় দেশের ক্রিকেটকে নতুন করে জন্ম দিবে।
নয় বছর আগে শেষবার বিদেশের মাটিতে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল জিম্বাবুয়ে। তাও আবার দুর্বল কেনিয়ার বিপক্ষে। গত দেড় দশক ধরে ক্রমান্বয়ে পতনের দিকে যাওয়া দলটির বিদায়ও দেখে ফেলেছিলেন অনেকে। ‘শক্তিশালী’ লঙ্কানদের বিপক্ষে এমন জয় তো তাদের জন্য পুনর্জন্মই।
২-২ সমতায় থাকা সিরিজের শেষ ম্যাচটা জিতে নিতে সর্বস্ব দিয়ে লড়েছে দুই দল। তবে ক্রিকেট দেবতা শেষ ম্যাচটায় একটু নাটকীয়তার জন্ম দেবেন বলেই হয়ত ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২০৩ রানের মাঝারি সংগ্রহ পায় লঙ্কানরা। আর এমন সহজ লক্ষ্যে নোঙর ফেলতে জিম্বাবুয়েকে খরচ করতে হয় ৭ উইকেট। দুদলের দিকে সমানভাবে হেলে থাকা ম্যাচটা অতিথিরা শেষ পর্যন্ত জিতে নিয়েছে ৩ উইকেটে। সঙ্গে প্রথমবারের মতো সিরিজও।
লঙ্কানদের সংগ্রহটা হতে পারত আরও লজ্জাজনক। ১৫৩ রানে অষ্টম উইকেটের পতনের পর দলকে সম্মানজনক অবস্থায় নিয়ে যান আসেলা গুনারত্নে। ৮১ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলা গুনারত্নকে শেষ পর্যন্ত সঙ্গ দেন দুষ্মন্ত চামিরা। তার ব্যাট থেকে এসেছে অপরাজিত ১৮ রান। বল হাতে ক্রিস্টোফার এমপোফু ছাড়া সাফল্য পেয়েছেন অতিথিদের প্রায় সবাই। ২১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুইয়ানদের সেরা ছিলেন সিকান্দার রাজা।
সহজ টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিলেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। হ্যামিল্টন মাসাকাদজা এবং সলোমন মায়ার ৯২ রানের উদ্বোধনী জুটিতে মনে হচ্ছিল সহজ জয়ই অপেক্ষা করছে তাদের। ৪৩ রান করে মায়ার সাজঘরে ফিরলে মাসাকাদজাকে যোগ্য সঙ্গ দেন টারসাই মুসাকান্দা। ১৩৭ রানের মাথায় ৭৩ রান করে মাসাকাদজা ফিরলেই মড়ক লাগে অতিথিদের ইনিংসে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়েছে, জেগেছিল ম্যাচ হারার শঙ্কাও। শেষ দিকে অপরাজিত ২৭ রান তুলে ব্যাট হাতেও দলকে জয়ের পথে নেতৃত্ব দেন সিকান্দার রাজা। শেষ পর্যন্ত ৭১ বল বাকি থাকতেই ৩ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে ভিড়ে যায় জিম্বাবুয়ের স্বপ্নতরী!







