প্রাকৃতিক দুর্যোগ সবসময় আসে না এবং বলে কয়েও আসেনা। বাংলাদেশে বছরের বিভিন্নসময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেই চলছে। ২০০৭ সালের ১১ জুন টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট পাহাড় ধসে প্রাণ হারায় ১২৭ জন। ১০ বছর পরে গতকাল (১৩ জুন) পার্বত্য এলাকায় পাহাড় ধসে প্রাণ গেছে ১৩৮ জনের। পাহাড় ধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ যখনই আসে তখন তা মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুতি কতটুকু থাকছে?
সে বিষয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং।
চ্যানেল আই অনলাইনকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য এলাকায় জনবসতি বেড়ে গেছে অনেকটাই। আর এবার এত বৃষ্টি হয়েছে যে, মাটি নরম হয়ে গেছে। ফলে এই পাহাড় ধসের ঘটনাটা ঘটেছে। বিগত ১০ বছরে এমন ঘটনা আর ঘটেনি। প্রকৃতির দুর্যোগ মাঝে মাঝে আসে। পার্বত্য এলাকা মোরার আঘাতও পেয়েছে কয়েকদিন আগে। ক্ষতিগ্রস্থ অবস্থাতেই আবার প্রকৃতির আঘাত কেড়ে নিয়েছে এতগুলো প্রাণ।

দুর্যোগ কখনো পূর্বাভাস দিয়ে আসে না কিন্তু সভ্যতার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ নিজের নিরাপত্তা বিষয়েও সচেতন হয়। পার্বত্য এলাকায় ঘটনার আগে ও ওইসময়ের প্রস্তুতি বিষয়ে বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, আমাদের কিছু আশ্রয়ন প্রকল্প রয়েছে। পাহাড়ীরা গ্রামেগঞ্জে পাহাড়ে নিজেদের মতো থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে আমাকে বলেছেন, একজায়গায় থাকার মতো করে নয় বা তারা যেভাবে থাকে সেভাবেই আশ্রয়ন প্রকল্প গড়ে দেওয়ার জন্য।
‘এছাড়া প্রস্তুতি বলতে অতিবৃষ্টির সময়ে মাইকিং করে সবাইকে সচেতন করা, স্কুলগুলো খুলে দিয়ে তাদের চলে আসতে বলা হয়। কিন্তু অনেকের কাছে জানের চেয়ে মালের প্রয়োজন বেশি থাকে। ফলে তারা মনে করে, দেখিনা কিছু সময় অপেক্ষা করে। এই করতে করতে একসময় দুর্ঘটনা ঘটে যায়।’
পার্বত্য এলাকার নিরাপত্তার জন্য আলাদা করে কোনো বাজেট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলাদা করে বাজেট নেই। কিন্তু আশ্রয়ণ প্রকল্পের পদক্ষেপ রয়েছে। পাহাড়িরা এক ঘরে থাকতে অভ্যস্ত নয়। ভবিষ্যতে যেন তাই তাদের নিজেদের বসত ভিটায় তাদের আদলে শক্ত করে ঘর করে দেওয়া হবে। আর প্রকল্প নেওয়া হলেই তো বাজেট বাড়ানো হবে।
দুর্ঘটনা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্থদের যথাযথ সহায়তার কথা উল্লেখ করে বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, ধসের ঘটনার পরে তাদের চিকিৎসা খাবার ওষুধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরে তাদের পুনর্বাসন করা হবে।







