পার্বত্য দুই জেলা রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান এবং চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত ৮১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৯ জন নিহত হয়েছে রাঙ্গামাটিতে। চট্টগ্রামে ১৭ এবং বান্দারবানে জেলায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৩ শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাধারণ জনগণের বাইরে নিহতের তালিকায় রয়েছেন এক মেজর ও এক ক্যাপ্টেনসহ ৪ সেনা সদস্য। নিখোঁজ রয়েছেন একজন। পাহাড় ধসে অর্ধ শতাধিক মানুষের এই মৃত্যুর মিছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় ধস বা ভূমি ধসে মৃত্যু যেনো নৈমিত্তিক হয়ে দাড়িঁয়েছে। এই মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। কিন্তু এই মৃত্যু আমাদের কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন করে দেয়। বিশ্বব্যাপী পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে যেমন এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ডেকে আনছে, তেমনি মনুষ্যসৃষ্ট কারণেও দুর্যোগের ভয়বহতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতীতে আমরা দেখেছি পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে বসতি ও স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে। বন উজাড় করে,আগুন লাগিয়ে বন ধ্বংস করে জনবসতি স্থাপন এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রধান কারণ। পাহাড়ের ঘন বন নিধন করে, প্রাচীন বৃক্ষ কেটে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করে আর যাই হোক প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব নয়। আর পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে মানুষ দুর্যোগমুক্ত জীবন যাপন করতে পারবে না। দিন দিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। পাহাড়ে বসতি স্থাপনের জন্য যত্রতত্র পাহাড় কাটা আর বৃক্ষ নিধন এখনও চলছে। ভঙ্গুর এসব ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের কোলে বসবাসরত পরিবারগুলোকে অন্যত্র পুনর্বাসন না করায় প্রতি বর্ষায় ঝরছে জীবন। এবারের পাহাড় ট্র্যাজেডিতে দেশের সেনাবাহিনীর দুইজন কর্মকর্তাসহ মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর পার্বত্য ঘাঁটিগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তাদের স্থাপনাগুলো কতটুকু নিরাপদ সেটিও এখন খতিয়ে দেখা দরকার। পাহাড়ে সমতল ভুমির সন্ধানে, পাহাড়ের পাদদেশে টিলা কেটে সমতল করা মোটেই নিরাপদ নয়। পাহাড়ে বসতি স্থাপন বা কোনো স্থাপনা নির্মাণের পূর্বে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।আজকের ট্রাজেডিতে যাদের প্রাণ গেলো তা পূরণ হওয়ার নয়। আমরা বারবার এই রকম ট্রাজেডি দেখতে চাই না। অকারণে মানুষের মহামূল্যবান প্রাণের অকালে ঝরে যাওয়া রোধ করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে এখনই সজাগ হতে হবে। নতুবা এরকম ট্রাজেডি আরো ঘটার সম্ভাবনা থাকে। যা আমাদের কারোর কাছেই কাম্য নয়।







