কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এর পাশে থাকা পাহাড়গুলো এখন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এসব পাহাড়কে ঘিরে সক্রিয় রয়েছে ১২ টি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ। খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতি এসব গ্রুপের নিত্যদিনের বিষয়।
রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হচ্ছে এসব রোহিঙ্গা ডাকাত গ্রুপগুলোর হাতে। এরকম একটি গ্রুপের ৭ সদস্য মারা গেছে র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায়। ঘটনার প্রতিশোধ নিতে গ্রুপগুলো আরও হিংস্র হয়ে ওঠবে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
বিগত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফের ৩২ টি ক্যাম্পে এসব রোহিঙ্গাদের বসতি এখন। নতুন পুরাতন মিলে ১১ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস এসব ক্যাম্পে।
এসব ক্যাম্প গুলোকে ঘিরে অপতৎপরতা শুরু করে কিছু রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বাহিনী। এসব ক্যাম্পগুলোর মধ্যে টেকনাফে রয়েছে ৭ টি আর উখিয়ায় ২৫ টি। টেকনাফের ক্যাম্প গুলোর পাশে রয়েছে গভীর পাহাড়। এসব পাহাড় গুলোকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে বেছে নেয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো। রোহিঙ্গা প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, আমাদের কাছে খবর রয়েছে ক্যাম্পের আশপাশের পাহাড় গুলোতে ১২ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এসব সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো রোহিঙ্গাদেরকে টার্গেট করে অপহরণ চাঁদাবাজি করছে। মাঝেমধ্যে তাদের অপহরণ আর চাঁদাবাজির শিকার হন বাংলাদেশের স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
টেকনাফের শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আবুল কাশেম, ফরিদুল আলম ও মোঃ কাশেম জানান, টেকনাফের ২৬ও ২৭ নম্বর ক্যাম্পের পাশে যে পাহাড় রয়েছে সেখানে অনেকগুলো সন্ত্রাসী রয়েছে। এসব সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পে এসে রোহিঙ্গাদের ধরে নিয়ে যায়। এরপর অসহায় রোহিঙ্গা গুলো মুক্তিপণ দিয়ে তাদের কাছ থেকে ছাড়া পায়।
লেদা ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা আব্দুল মোতালেব জানান, গত এক মাসে এসব গ্রুপ তাদের ক্যাম্প থেকে অন্তত ২৫ জনকে অপহরণ করে। পরে তাদের দাবিকৃত মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে আনা হয়। লেদা ক্যাম্পের আরেক বাসিন্দা নুরুল করিম বলেন, এসব সন্ত্রাসীরা, আমাদের রোহিঙ্গা জাতির কলঙ্ক। আমরা চাই এদেরকে বাংলাদেশ সরকার শাস্তির আওতায় নিয়ে আসুক।
সোমবার ভোররাতে টেকনাফের জাদিমুরা মুছনী পাহাড়ী এলাকায় র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের ৭ সদস্য মারা যায়। এর আগে ৩০ ডিসেম্বর র্যাবের সাথে গোলাগুলিতে একই বাহিনীর ইলিয়াস নামের আরেক সদস্য মারা গেছিল।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব) ফোরকান আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য মারা যাওয়ার ঘটনাকে তারা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেবে না। ঘটনার প্রতিশোধ নিতে তারা আরও হিংস্র হয়ে উঠবে।তাই এ ব্যাপারে আইন প্রয়োাগকারী সংস্থাগুলোকে কৌশল অবলম্বন করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, সন্ত্রাসীদের গ্রুপ সক্রিয় থাকার খবরটি আমাদের কাছেও রয়েছে।ক্যাম্প গুলোতে পুলিশের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী হোক কিংবা স্থানীয় সন্ত্রাসী হোক, সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেবে না পুলিশ। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে সব সময় পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।
র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র্যাবের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।








