সিলেট থেকে: ‘চায়ের দেশে এসে চার দিনের চা বিরতির আগেই খেলা শেষ!’ সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের অভিষেক টেস্ট কাভার করতে আসা এক সিনিয়র সাংবাদিকের ফেসবুক স্ট্যাটাস এটি। বিস্ময় চিহ্নে মিশে থাকল হয়তো তার আক্ষেপও।
তিন-চার দিনে সিলেট টেস্ট শেষ হয়ে যেতে পারে এমন কথা শোনা যাচ্ছিল ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই। বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টে থাকা অনেকেই উইকেট দেখে বুঝে ফেলেন সেটি! তাদের ধারণাই সত্যি হয়েছে। কিন্তু পরাজিত দলটি যখন বাংলাদেশ, তখন বিস্ময় জাগাবেই।
মিরপুরে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াকে চার দিনের মধ্যে টেস্ট হারানোর পর একটা মিথ তৈরি হয়েছে, স্পিন উইকেট মানেই সফরকারী দল পাঁচ দিনের আগেই কুপোকাত। সেই ধারণায় বড় এক ঝাঁকুনিই দিল জিম্বাবুয়ে।
চতুর্থ দিনে চা-বিরতির আগেই বেজে যায় বাংলাদেশের হারের ঘণ্টা। আরিফুল হক ওয়েলিংটন মাসাকাদজার হাতে ফিরতে ক্যাচ তুলে দিতেই স্ট্যাম্প তুলে উদযাপনে মাতেন জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়রা। শুরুর নানা আয়োজন ও উৎসবের পর মাঠের খেলাতেও বাংলাদেশের অষ্টম টেস্ট ভেন্যুর অভিষেক স্মরণীয় হল, তবে সেটি জিম্বাবুয়ের জন্য। ১৭ বছর পর দেশের বাইরে টেস্ট জয়ে তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে জড়িয়ে গেল সিলেটের নাম।

পূণ্যভূমিতে জিম্বাবুয়ের উদযাপন দেখার জন্য একমুহূর্ত অপেক্ষা করেনি মাঠে আসা দর্শকরা। ম্যাচ শেষ হতেই গেটগুলোতে জমে যায় ভিড়। ১৫১ রানের ব্যবধানে হারের পর দর্শকদের জমা কষ্টে সান্ত্বনা দিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
‘অধিনায়ক হিসেবে এবং খেলোয়াড় হিসেবেও এটা মানা কষ্টকর। দর্শকরা এসেছে আমাদের ভালো খেলা দেখতে। আমরা পারফর্ম করতে পারিনি। এটার জন্য আমরা দুঃখিত। সব সময় প্রত্যাশা করি উনারা যেভাবে সব সময় সমর্থন করেন সেভাবে করবেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের আগেও এমন সময় এসেছে তখনও আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। আশা করি সবাই মিলে আবার ঘুরে দাঁড়াব।’
কাজটা যে মোটেও সহজ নয় সে বার্তা প্রথম টেস্টেই দিয়ে দিয়েছেন জিম্বাবুয়ে। সফরকারী দলের ভারতীয় কোচ লালচাঁদ রাজপুত বললেন, এটি গ্রেট গ্রেট উইন। দারুণ পারফরম্যান্সের রেণু ছড়াতে চায় পরের ম্যাচেও। এবং তারপরও, কোচের কাছে জিম্বাবুয়ের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনার সংকল্পে প্রথম ধাপ বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট জয়। সাদা পোশাকে শুভ্র জয়ে চোখে রঙিন স্বপ্ন তাদের।
অন্যদিকে দুশ্চিন্তার সাগরে বাংলাদেশ। টানা আট ইনিংসে দুইশ ছাড়াতে পারেনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে অবশ্য বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দেখা গেছে অন্যরূপে। সাদা পোশাক গায়ে জড়াতেই বিবর্ণ সেই ব্যাটিং। টেস্ট নিয়ে নতুন করে ভাববার তাগিদ মাহমুদউল্লাহর কথায়।

‘টেস্ট ক্রিকেটের ব্যাপারে আমাদের আরও যত্নশীল হতে হবে। আমরা হয়তো পাঁচ ছয়টা (আট ইনিংস) ইনিংসে রান করতে পারিনি। বোলাররা যথেষ্ট ভালো বোলিং করেছে। প্রতিপক্ষকে অল্প রানে আটকে ফেলছে। ব্যাটসম্যানরা ভালো করছে না। ওয়ানডে ফরম্যাটে ভালো ছন্দে আছে। কিন্তু সেটি হয়তো আমরা টেস্ট ক্রিকেটে নিতে পারছি না।’
‘অবশ্যই এটা চিন্তার বিষয়। আমাদের এটা খুব ভালোভাবে চিন্তা করতে হবে। কারণ এভাবে ব্যাট করতে থাকলে মনে হয় না আমরা টেস্ট ক্রিকেটে কোনো অবস্থানেই থাকব। এটা আমাদের ইমেজের ইস্যু। আমাদের অবশ্যই শক্তভাবে ফাইট ব্যাক করতে হবে। যদি এমন খেলতে থাকি তাহলে টেস্ট খেলার কোনো যথার্থতা থাকে না।’








