ধান, চাল, ডালসহ ৬টি পণ্যে বাধ্যতামূলক পাটজাত মোড়ক ব্যবহার আইন-২০১০ এর প্রয়োগে অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। রাজশাহী জুট মিলে প্রস্তুতি পরিদর্শনের পর বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম জানিয়েছেন, শত বাধা এলেও এবার পাটের এই আইন যে-কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করবেনই তারা।
সোনালি আঁশের হারানো ঐতিহ্য ফেরানোর লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। নানা পদক্ষেপ বাস্তবায়নের সঙ্গে চলছে ২০১০ সালে প্রণয়ন করা আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগে অভিযান শুরু করবার প্রস্তুতি।
অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এবার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্তের পর সমন্বিত অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। রাজশাহী জুট মিল পরিদর্শনের পর বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেরীতে হলেও পাটের আইন বাস্তবায়নে এবার আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামছেন তারা।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, শুধু এক মন্ত্রণালয় নয়, সরকারের যত রকম ম্যাকানিজম আছে সবকিছুই এবার আমরা যোগ করছি। কাজেই এবার এই আইন বাস্তবায়ন হবে। কারণ বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ এর পক্ষে।
আইনটির সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সারাদেশে একযোগে অভিযান শুরু করার আগে প্রস্তুতির কাজও শেষ করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
প্রতিমন্ত্রী আরো জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তে ধ্বংসপ্রায় পাট শিল্পের ঐতিহ্য ফেরাতে সমন্বিত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবেন তারা।
মির্জা আজম বলেন, শুধু ছালা, বস্তা আর দড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ না। পাট থেকে বিভিন্ন রকমের পণ্য এই বাংলাদেশেই তৈরি হচ্ছে। সেগুলোকে জনপ্রিয় করার জন্য আমাদের বেসরকারি উদ্যোক্তা যারা আছে তাদের উৎসাহিত, সহযোগিতা করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি।
রাজশাহীতে পাটকল পরিদর্শন ছাড়াও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাধ্যতামূলক পাটজাত পণ্য ব্যবহার আইন প্রয়োগের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী। এছাড়াও রাজশাহী রেশম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে রেশম শিল্পের লোকসানের কারণ পর্যালোচনা করেন তিনি।







