পাকিস্তানের মুলতান জেলায় ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ভাইয়ের শাস্তি হিসেবে বোনকে প্রতিশোধমূলক ধর্ষণের সাজা দেয়ার ঘটনায় হওয়া মামলার ২৯ আসামীকেই গ্রেফতারের কথা নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়ে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ।
আগস্টের শুরুর দিকে এক ব্যক্তি মুজাফফরাবাদ গ্রামের জির্গা’র (গ্রাম্য সালিশ) কাছে নালিশ নিয়ে যায় যে তার ১২ বছরের বোন তাদেরই এক চাচাতো ভাইয়ের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর কিছুদিন পর অভিযুক্ত ওই চাচাতো ভাই পলাতক থাকায় অপরাধের শাস্তি তার ১৬ বছর বয়সী বোনকে দেয় জির্গা। শাস্তিটি ছিল অভিযোগকারী দ্বারা প্রতিশোধমূলক ধর্ষণ।
শাস্তি পাওয়া কিশোরীকে জোর করে ধরে এনে তার বাবা-মা এবং সালিশ দলের সামনে ধর্ষণ করা হয়। মেডিক্যাল পরীক্ষায় দুই কিশোরীরই ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
এ ধরণের বেআইনি বিচার ও শাস্তিদানের অপরাধে প্রথমে ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পাঞ্জাব পুলিশ। পরে আসামীর সংখ্যা বেড়ে হয় মোট ২৯ জন। প্রথম ধাপে চার নারীসহ ২০ জনকে গ্রেফতারের পর এবার পলাতক সব আসামীকে আটক করতে সফল হলো পুলিশ।
মুলতান সিটি পুলিশ কর্মকর্তার (সিপিও) দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬ বছর বয়সী কিশোরীকে ‘শাস্তি’ হিসেবে ধর্ষণকারী মামলার মূল আসামীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্যদিকে ১২ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণকারীকে গত সপ্তাহেই ধরেছে পুলিশ।
ডন জানায়, এ ঘটনায় তিনটি ভিন্ন এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।প্রথম দু’টো দুই কিশোরীর পরিবারের একে অপরের বিরুদ্ধে, আর তৃতীয়টি অবৈধ গ্রাম সালিশের বিরুদ্ধে।
পুলিশ ধর্ষণের শিকার দুই কিশোরী এবং অভিযুক্ত দুই ধর্ষকের নমুনা নিয়ে পরীক্ষায় পাঠাবে এবং আগামী সাতদিনের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে আদালতে তথ্য জমা দেবে বলে সিপিও জানিয়েছেন।









