পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে সার্জিকাল স্ট্রাইকের চেয়েও ভালো উপায় ভারতের কাছে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লির আর্মি হেডকোয়ার্টারে বসে হিন্দুস্থান টাইমসকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পাকিস্তান মনে করে তারা একটি সহজ যুদ্ধে লিপ্ত, যা থেকে তারা লাভবান হবে। কিন্তু আমাদের (স্যার্জিকাল স্ট্রাইক ছাড়াও) আরও প্রভাবশালী ও কার্যকরী উপায়ও রয়েছে।”
পাকিস্তান সংলগ্ন কাশ্মীর সীমান্তে গোলযোগপূর্ণ নিয়ন্ত্রণরেখায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ নামের অভিযান চালায়। এতে লস্কর-ই-তৈয়বার ৪০ জঙ্গি নিহত হয়। তাদের অস্ত্রভাণ্ডারও ধ্বংস করে দেওয়া হয় বলে দাবি করে ভারত।
সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতে অনুপ্রবেশ ও হামলা চালাতে প্রস্তুত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালানো হয় ওই ধরনের অভিযানে।
মূলত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানাই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’। পারিপার্শ্বিক ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কম রেখে লক্ষ্যে পূর্ণ করাই এ হামলার মূল উদ্দেশ্য। ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে’র মূল মন্ত্র হলো নিশানাকে নির্ভুলভাবে বেছে নিতে হয়। এর বড় উদাহরণ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে চালানো মার্কিন নেভি সিলের অপারেশন, যাতে নিহত হয় আল কায়েদার শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেন।
পাকিস্তানের বিশেষ বাহিনী বর্ডার অ্যাকশন টিমের (ব্যাট) বিরুদ্ধে মে মাসের ১ তারিখে ভারতীয় দুই জওয়ানের শিরশ্ছেদ ও দেহ বিকৃতির গুরুতর অভিযোগ উঠে। জম্মু ও কাশ্মীরে এই নৃশংস ঘটনাটির উল্লেখ করে বিপিন রাওয়াত বলেন, “আমাদের সেনাবাহিনী বর্বর নয়। আমরা শৃঙ্খলিত বাহিনী, তাই কারও মাথা সংগ্রহ করতে চাইনা।”
হিজবুল্লাহ মুজাহিদিনের প্রধান সাইদ সালাহউদ্দিনকে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে অ্যাখ্যা দেওয়ায় তিনি বলেন, আমি অপেক্ষা করবো এবং দেখবো পাকিস্তান তাকে নিয়ন্ত্রণে কি ব্যবস্থা নেয়।
লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাইদের মাথার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও এই জঙ্গি নেতা বা তার দলের বিরুদ্ধে কোন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন রাওয়াত।
কাশ্মীরের নেতাদের সাথে শান্তি আলোচনায় বসায় ব্যাপারে তিনি বলেন, “কেবলমাত্র শান্তি থাকলেই সেখানে আলোচনা হতে পারে। সেনাবাহিনীরতো একটি কাজ রয়েছে। শান্তি ফেরানোর নিশ্চয়তা দিতে হয় আমাদের। আমি এমন ব্যক্তির সাথেই আলোচনা করবো, যে নিশ্চয়তা দিতে পারবে যে আমার বহরের উপর হামলা হবে না। যখন এমনটি হবে, আমি ব্যক্তিগতভাবে আলোচনায় বসবো।”
কাশ্মীরের কিশোর-তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী উল্লেখ করে রাওয়াতবলেন, “এদের ভুল তথ্য ও ভুল মতবাদে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ১২ এবং ১৩ বছরের বালকরা পর্যন্ত বোমা হামলাকারী হতে চায়। আমরা তরুণ নেতাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি, যাদের সাথে কথা বলা যায়।”
তিনি বলেন, “আমি চাই লোকজন সহিংসতা পরিহার করুক। আমি চাই না নিরীহরা ক্রসফায়ারের মধ্যে পড়ুক। বেসামরিক লোকজন হতাহত হোক, তা চাই না।
শ্রীনগরে একজন বেসামরিক লোককে মানব ঢাল বানিয়ে গাড়ি চালানো মেজর এনএল গগৈ-এর পক্ষই সমর্থন করেন রাওয়াত। গগৈ এই ঘটনার পর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পুরস্কৃতও হয়েছিলেন।
সম্প্রতি শ্রীনগরের জামিয়া মসজিদের বাইরে পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট এমএ পন্ডিতকে পিটিয়ে নিহত করার ঘটনা উল্লেখ করেন ভারতের সেনাপ্রধান বলেন, “নির্বাচন কমিশনে এই কর্মচারী সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিল। তাদের যদি এভাবে হত্যা করা হয় তাহলে তারা কি করবে?”
এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি বলেন,“আমি সেখানে ছিলাম না। আমি জানি না আমার ছেলেদের কি পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যেতে হয়, কিন্তু আমাকেতো অনুপ্রেরণাদায়ীর ভূমিকাই নিতে হবে।”
চাইনিজ পিউপল’স লিবারেশন আর্মি এবং ভারতীয় বাহিনীর মধ্যে সিকিমে সাম্প্রতিক দাঙ্গার খবরগুটি উড়িয়ে দেন সেনাপ্রধান।
“আমাদের সীমান্তে কোন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। আমি জানি না এই চিত্রগুলো কোথা থেকে এসেছে, কিন্তু তা সিকিম থেকে নয়।”








