দীর্ঘ এক মাস সিয়ম সাধনার পরে আগামী মঙ্গলবার (৩ মে) দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ঈদের ছুটিতে নিজ নিজ এলাকায় যেতে শুরু করেছেন মানুষজন। বেসরকারি শিল্প-কারখানায়ও শনিবার থেকে ছুটি শুরু হয়েছে। কিন্তু আজ মহান মে দিবসের এই দিনেও বহু কল-কারখানার শ্রমিক ঈদের আগাম আনন্দ থেকে বঞ্চিত। কারণ এখনও তাদের বেতন-বোনাস হয়নি।
শিল্প পুলিশের প্রতিবেদন অনুসারে, পাঁচ শতাংশ কারখানার শ্রমিকরা বোনাস ও ১৭ শতাংশ কারখানার শ্রমিকরা বেতন পাননি। এসবের বেশিরভাগই ছোট কারখানা। ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৯ হাজার ১৭৩টি কারখানার মধ্যে ৯৫ শতাংশ কারখানায় শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনের বেতন দেওয়া হয়েছে ৮৩ শতাংশ কারখানায়। এখনো ১৭ শতাংশ কারখানার শ্রমিকদের বেতন বাকি রয়েছে।
উপরের তথ্যের বাইরেও বহু কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে দেশজুড়ে। সেসবের প্রকৃত চিত্র বের করা কঠিন হলেও অনুমান করতে কষ্ট হবার কথা না। আজকের এই বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি সবই নির্ভর করছে হাওরের কৃষক, প্রবাসী শ্রমিক, গার্মেন্টস কর্মী থেকে শুরু করে দেশের প্রান্তিক শ্রমিক জনতার শ্রমে-ঘামে। যে শ্রমিকেরা আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে, দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে সেই শ্রমিকেরাই বাংলাদেশে অনেকটাই অবহেলিত।
সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কল-কারখানার মালিকদের অনুরোধ করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এছাড়া শ্রমিকদের ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও তাগিদ ছিল রমজানের মাঝামাঝি থেকে। তারপরেও দেশের শ্রমঘন অঞ্চল থেকে বেতন-বোনাসের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালনের খবর আসছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া দাবির খবরও আসছে। এই বাস্তবতায় বিশ্বের আরও অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও মে দিবস পালিত হয়েছে।
মানুষের শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে যে দেশের অর্থনীতি, সেদেশে শ্রমিকেরাই সর্বোচ্চ মর্যাদা পাওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে পদে পদে শ্রমিকেরা অবহেলা আর উপেক্ষার শিকার। ঈদ মানুষের জীবনে আনন্দ বয়ে আনে, কিন্তু আনন্দের জন্য বাড়তি কিছু অর্থও চাই। যা অনেক শ্রমিকরাই এখনও পাননি।
ঈদ এমন এক উৎসব যা আসলে ধনী-গরিব সব মানুষকে এক কাতারে সামিল করে। আসন্ন ঈদের আগেই যেন শ্রমিকরা তাদের পাওনা বুঝে পেয়ে আনন্দে শামিল হতে পারে, এই আমাদের প্রত্যাশা। আমাদের আশাবাদ, সরকার থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।







