স্পোর্টস

পরের হয়ে খেলে ঘরের কাছে রিয়াদ, শফিউলের হার

পরের হয়ে খেলে ঘরের কাছে রিয়াদ, শফিউলের হার

ছবি: বিসিবির সৌজন্যে

নিছক একটা প্রস্তুতি ম্যাচ। তাই দল সাজাতে আয়েসি কৌশল। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, শফিউল ইসলাম খেললেন সাসেক্সের হয়ে। দেখলেন ১৩৪ রানের হার। ম্যাচটা ‘নিছক’ হলেও কারো কারো জন্য ‘গভীর বার্তা’র একটা ব্যাপার ছিল। যেখানে জাতীয় দল জড়িত, সেখানে সবসময়ই এই গভীর বার্তা থাকে। থাকবে!

শ্রীলঙ্কা সফর থেকে একটা ‘অপ্রিয় অস্বস্তি’ সঙ্গী হয়েছে রিয়াদের। এতদিনে সেটা বজায় থাকার কথা নয়। রিয়াদ ভেতরে কয়েকটি ম্যাচে ভালোও খেলেছেন। তবু ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে নিশ্চয়ই প্রস্তুতি ম্যাচকে পাখির চোখ করেছিলেন। নিশ্চয়ই স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন উপমহাদেশের বাইরে তাকে দলের কতটা দরকার। রিয়াদ কিন্তু সেটা পারলেন না। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে নেমে ৪ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন। দ্বিতীয় ম্যাচে ‘পরে’র হয়ে খেলতে নেমে ৩২ রান করেন। তাসকিনের বলে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে।

আরেকজনের জন্য ‘গভীর বার্তা’র সময় আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজ। নাসির হোসেন। ফর্মে থেকেও অনেকটা সময় জাতীয় দলের বাইরে কাটাতে হয়েছে তাকে। সেই নাসিরও নিশ্চয়ই ‘গভীর বার্তা’ দিতে চেয়েছিলেন। সময় হেরফের হতে পারে। বদলে যেতে পারে লড়াইয়ের মাত্রা। কিন্তু মাঠের যোদ্ধারা কখনো ওইসব দিন ভুলতে পারেন না; যেসব দিনে ‘অকারণ অবহেলা’ সঙ্গী হয়। নাসিরও রিয়াদের দলে পড়বেন। কন্ডিশনের সঙ্গে খুব একটা মানিয়ে নিতে পারেননি। প্রথম ম্যাচে ৩০ বলে করেছিলেন ২৬। শুক্রবার করলেন ৬।

এই দুজনের বাইরে ইমরুলের জন্য প্রস্তুতি ম্যাচগুলো ‘বিশেষ কিছু’। তামিম-সৌম্যর কারণে খুব একটা সুযোগ পান না। তার বেলায় ব্যাপারটা এমন, কোনোকালে সুযোগ পেলেই এমন কিছু করতে হবে, যাতে তাকে আর ভোলা যায় না। অন্যথায় সুযোগ হয়ে যাবে দূর আকাশের তারা। সেই ইমরুল প্রস্তুতিতে সফল। প্রথম ম্যাচে ৪৪ করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৯২ করে স্বেচ্ছা অবসরে চলে যান। যাতে অন্যরা ব্যাট করার সুযোগ পান।

বাংলাদেশ এদিন আগে ব্যাট করে ইমরুলের অমন ব্যাটিংয়ে ভর করে ৩১৪ রান সংগ্রহ করে। মেহেদী হাসান মিরাজ ৬০ রানে অপরাজিত থেকে দলের স্কোর বড় করেন।

প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে বৃষ্টির কারণে বোলাররা বেশি সময় বল করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। এদিন আর বৃষ্টি এল না। তাসকিনরা বোঝালেন ব্যাটসম্যানদের মতো তারাও মানিয়ে নেওয়ার কাজটি ভালোই করছেন। তাসকিন নিজে নিয়েছেন দুই উইকেট। শুভাশিষ রায়ের দখলেও দুই উইকেট। মিরাজ ফিরিয়েছেন তিনজনকে। সানজামুল ইসলাম এবং সাব্বির রহমান নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

রিয়াদ, নাসিরদের মতো প্রস্তুতি ম্যাচগুলো আরেকজনের কাছে ‘বিশেষ কিছু’। রুবেল হোসেন। শ্রীলঙ্কায় সাইডবেঞ্চে চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় থেকেও বল হাতে তুলতে পারেননি। সেই রুবেল কিন্তু এদিন উইকেটহীন। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেও বরাবরের মতো তাকে মাঠের বাইরে দেখলে তাই অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সম্ভাবনা অবশ্য এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। ১০মে আয়ারল্যান্ডে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ আছে। যেখানে খেলা, সেখানে ভালো করতে পারলে নাসির, রুবেলদের অপেক্ষারও অবসান হতে পারে।

অপেক্ষা নাকি বড় মধুর। কভু কাছে কভু সুদূর। নাসিরদের জন্য কোনটা?

বিষয়:বাংলাদেশ সাসেক্স

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…