এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় মোট ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন। গড় পাসের হার ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। যা গতবার ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। গতবারের তুলনায় এবারে পাসের হার বেড়েছে। সেইসঙ্গে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
পরীক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষাজীবনের একটি বিশেষ মাইলফলক, যা শিক্ষার্থীদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। বিভিন্ন কারণে এই পরীক্ষা পাস অনেকসময় অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে ভীতি, মনোযোগের অভাব, পরীক্ষাকালীন অসুস্থতাসহ নানা প্রতিকূলতা সেসবের মধ্যে অন্যতম। যারা এবারের পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি, তারা তাদের নিজ নিজ দূর্বলতা ও প্রতিকূলতা চিহ্নিত করে সামনেরবার প্রস্তুতি নেবে বলে আমাদের আশাবাদ।
এছাড়া আরেকটি বিষয় লক্ষ্যনীয়, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তির প্রতিযোগিতা ও না পেলে হতাশা। একটি পরীক্ষায় সবাই একইরকম ফলাফল করবে, এটা ধরে নেয়া ঠিক নয়। পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল উচ্চ শিক্ষার সুযোগের জন্য ও পরবর্তীতে কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগে। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে দেখা যায়, প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত না হলে অনেকসময় এসব জিপিএ কাজে আসে না। অপেক্ষাকৃত কম জিপিএ পাওয়া অনেককে উচ্চশিক্ষায় ও কর্মক্ষেত্রে অনেক ভাল করতে দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশার পাশাপাশি অভিভাবকদের একটা প্রত্যাশা থেকে অতিরিক্ত চাপ সবসময়ই থাকে। কার সন্তান কী রেজাল্ট করলো, এটি নিয়ে চলে নীরব যুদ্ধ। এই চাপের ভার সহ্য করতে না পেরে অনেকসময় অনেক শিক্ষার্থী দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। এই বিষয়গুলো খুবই নেতিবাচক।
আমরা মনে করি, ফলাফল ভাল না হওয়া মানে থেমে যাওয়া না। এ পরিস্থিতিতে নিজ নিজ সন্তানদের পরিবারের সদস্যরাই সবার আগে সাহস দেবেন, পাশে থাকবেন। আর এই বিষয়গুলো শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা যতো দ্রুত বুঝতে পারবেন ততই আত্মবিশ্বাসি হয়ে উঠবে প্রজন্ম।
এ বছরের পরীক্ষায় যারা পাস করছে তাদের অভিনন্দন, আর যারা পারেনি তাদের সামনের দিনগুলোর জন্য আমাদের শুভ কামনা।








