সম্প্রতি শুটিং শেষ হয়েছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় ‘শনিবার বিকেল’ বা ‘স্যাটারডে আফটারনুন’। এতে অভিনয় করেছেন ভারতের পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। এর আগেও অনিমেষ আইচের ‘ভয়ংকর সুন্দর’ ও ফাখরুল আরেফিনের ‘ভুবন মাঝি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁকে দেখা গেছে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে।
‘শনিবার বিকেল’ সম্পন্ন করে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) এবারের বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ফেসবুকে। পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হল-
‘আরো একটা ছবি শেষ করে ফিরলাম বাংলাদেশ থেকে। ফিরেই আজ চললাম মুম্বাই। কিন্তু এখনও হাতে, গায়ে, মুখে ঢাকা লেগে আছে। some of my best friends are from Dhaka, তাদের আকুল করা ভালোবাসাতো বটেই, এইবারের সফরে হওয়া নতুন বন্ধুদের উষ্ণ ভালোবাসাও লেগে আছে সারা মনে! একটি অসাধারণ ছবি হবে বলে আশা করি ফারুকী ভাই এর Saturday afternoon ! খারাপ ভালো পরের কথা, এমন এক অভিজ্ঞতা উপহার দেবে এই ছবি যা আগে উপমহাদেশের মানুষ পাননি বলেই মনে হয় । ভীষণ জরুরি এই ছবি আজকের পৃথিবীতে, উপমহাদেশের প্রেক্ষিতে। তাই সেই ভালো লাগার রেশটাও ভীষণ ভাবে কাজ করছে এখনও মনের ভেতরে। এই ছবির শুটের ফাঁকে ফাঁকে করলাম আরো অনেক জরুরী কাজ এর প্রস্তুতি যা সবাই আগামীতে দেখতে পাবেন। তার সঙ্গে ঘুরে এলাম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ভুবন মাঝির প্রদর্শনী থেকে। আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য উৎসব এ dhaaboman নাটকটি দেখে মুগ্ধ হলাম! তার সঙ্গে ছিল দেদার আড্ডা নতুন পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে, যাদের মধ্যে কেউ কেউ এখন literally আত্মীয় হয়ে উঠেছেন।
আমার প্রত্যেক বাংলাদেশ সফরে জায়গাটা কে আমি আরো ভালো করে চিনি। যে চেতনা, যে মূল মূল্যবোধ এর উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ এবং প্রতিষ্ঠা, তা আরও ভাল করে জানি। সেই বোধ ও চেতনা আজ কিভাবে এবং কতটা challenge এর মুখোমুখি, এবং শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ কি ভাবে তার মোকাবিলা করছেন সব ই চেষ্টা করি জানতে, বুঝতে।
ঐতিহাসিক ভাবে আমরা যে একটা দেশ, একটা জাতি সেই বিশ্বাসটা আরো শক্ত পোক্ত হয়। এই প্রসঙ্গে বলা ভালো, দুই বাংলা র মধ্যে মিল এর সঙ্গে সঙ্গে ফারাক ও নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু তার থেকেও বেশি আছে এই ফারাক গুলোকে কাজে লাগিয়ে বিভেদ তৈরি করার মানুষ। আবার এক শ্রেণির মানুষ আছেন যারা এই তৈরি করা বিভেদগুলো, সমস্যাগুলোকেই একমাত্র বাস্তব মনে করেন, তাই মনে শত্রু হয়ে থাকতে চান একে অন্যের, ভুল ধারণা এ বেঁচে থাকেন। আমি দু’দেশেই সেই মানুষ গুলোর সঙ্গে মিশতে পছন্দ করি যারা ভরসা রাখেন মিলগুলোতে, ঐতিহাসিক যোগসূত্রতে, হৃদয়ের আদান প্রদানে। তার সঙ্গে কুর্নিশ জানাই দুই দেশের সেই সব মানুষদের যারা সব প্রতিকূল অবস্থা অগ্রাহ্য করে লড়াই করছেন ভুল ধারনা ভাঙতে, ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টাকে আটকাতে। against all forms of negativity, engineered hatred, non secular jingoistic forces! যে চেতনা থেকে তারা এই কাজ করছেন, সেই চেতনাকে সাধুবাদ জানাই। একে অপরের identityকে সম্মান করে, জেনেই কিন্তু সব ধরনের বাঙালি বেঁচে এসেছে যুগ যুগ ধরে। একে অপরকে চেনা, বোঝা জানার চেষ্টা মানে কিন্তু আরো বেশি করে নিজেকেই, নিজের ইতিহাসকেই জানা। এই জানার চেষ্টাটা কমেছে হয়তো কিন্তু নিঃশেষ হয়ে গেছে বিশ্বাস করি না! পশ্চিমবঙ্গ থেকে ঢাকায় আগত এক প্রবীণ সাহিত্য পণ্ডিত ও অনুরাগী রাম দুলাল বাবু যেমন বাচ্চু আঙ্কেল কে ( নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু) কে পাশে নিয়ে সাহিত্য উৎসবে বলেই ফেললেন ” বাংলা ভাগ হয়েছে ঠিক ই, বাঙালি ভাগ হয়নি।” আবেগতাড়িত উচ্চারণ নিশ্চয়ই কিন্তু এই আবেগটাতেই বিশ্বাস করি। জোর গলায় বলছি, করি।
Here’s a big one To more love, work and friendship!










