সালমান শাহ বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। নব্বই দশকে সিনেমার ক্যারিয়ার শুরু হওয়ার পর সালমান ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়েন। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা সালমান কাজের বাইরে আড্ডা দিতে খুব পছন্দ করতেন। এফডিসির বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দিলেও তার বাইরে কিছু আড্ডার জায়গা ছিল।
সেসময়ে ইস্কাটনের পদ্মা স্টুডিও ছিল তারকাদের আড্ডার জায়গা। সালমান সুযোগ পেলেই চলে যেতেন সেই স্টুডিওতে। মন-প্রাণ খুলে আড্ডা দেওয়া মিশুক ছেলে সালমান সবাইকে মাতিয়ে রাখতেন। সালমানের প্রতিদিনের আড্ডায় কালার প্লাস’র সিইও আক্কাস মাহমুদ শরিক হতেন। সালমান শাহ’র ২০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে সেসময়ের সালমানের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া স্মৃতি স্মরণ করলেন।
তিনি বলেন, তখনকার সময়ে পদ্মা স্টুডিওতে সিনিয়র ও জুনিয়রদের বেশ আড্ডা বসত। আমরা তখন বয়সে তরুণ থাকায় ঠিক সিনিয়রদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া হত না। তাই তরুণরা একটু আলাদা করে বসতাস আর সালমান শাহ’র বাড়ি ইস্কাটনে থাকার কারণে বিকেল বেলায় হাঁটতে হাঁটতে পদ্মা স্টুডিওতে চলে আসতেন। সেখানেই আমাদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন তিনি।
সালমান শাহ মিশুক থাকার কারণে বেশ জম্পেশ আড্ডা হত পদ্মা স্টুডিওিতে। সালমানকে ব্যাক্তি হিসেবে কাছ থেকে দেখা আক্কাস মাহমুদ বলেন, সালমান অসাধারণ মানুষ ছিলেন। উনি যখন আমাদের সঙ্গে আড্ডা দিতে আসতেন, আমরা তখন খুব পুলকিত হতাম। কারণ ওই সময়ে তিনি স্টার ছিলেন। তবে তার মধ্যে আমরা কখনো স্টারের মনোভাব দেখেনি। আড্ডায় একবারে আমাদের সঙ্গে মিশে যেতেন। এফডিসি সর্ম্পকে, নায়িকাদের সঙ্গে মজা করা সবকিছুই তিনি আড্ডায় বলতেন। আসলে সালমান খুব প্রাণবন্ত ছিলেন।
স্টুডিওতে যাওয়ার খাতিরে পদ্মা স্টুডিওতে বহু ছবি তুলেছেন তরুণদেন ফ্যাশন আইকন সালমান শাহ। ছবিতে তিনি যতই ভিন্ন ভিন্ন লুকে আসলেও বাস্তবে তিনি ছিলেন একেবারে উল্টো। সাধারণ পোশাকে থাকতেই তিনি পছন্দ করতেন। তবে নিজের পোশাক সর্ম্পকে খুব সচেতন থাকতেন সালমান।
সালমানের সঙ্গে দীর্ঘদিন আড্ডায় দেয়ার কারণে আক্কাস মাহমুদের বহু স্মৃতি রয়েছে তার সঙ্গে। কিন্তু সেসব স্মৃতি মনে করলে তার চোখ ভিজে আসে। বলেন, খুব মিস করি সালমান শাহকে। তিনি বলেন, আমরা যারা সেসময় বাংলা চলচ্চিত্র দেখতাম না, তারা সালমান শাহ অভিনয় দেখে বাংলা ছবি দেখা শুরু করেছিলাম। আমার মনে হয় সালমান যদি আমাদের মাঝ থেকে চলে না যেতেন তাহলেেএকজন নতুন নায়ক রাজ রাজ্জাক পেতাম।








