পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের প্রমান দিতে কানাডার আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংকের আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ নভেম্বর। সুপ্রীম কোর্ট অব কানাডা শুনানিতে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে জানিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে কানাডার স্থানীয় বাংলা অনলাইন ‘নতুনদেশ’।
অন্টারিওর সুপিরিয়র কোর্ট অব জাস্টিস পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ দিতে বিশ্বব্যাংককে নির্দেশ দিলে বিশ্বব্যাংক ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করে।
শুনানির জন্য তৈরি করা সুপ্রীম কোর্ট অব কানাডার ‘মামলার সংক্ষিপ্তসার’ থেকে জানা যায়, বিশ্বব্যাংক তার আপিল আবেদনে কানাডার বাসিন্দা নয়, এমনকি মামলার কোনো পক্ষও নয়- এমন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে তাদের নিজস্ব গোপনীয় কোনো দলিল আদালতে উপস্থাপনে বাধ্য করতে পারে কি না সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছে।
কানাডার সুপ্রীম কোর্টের সূত্রে জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের আপিলের সূত্র ধরে সুপ্রীমকোর্ট সকল পক্ষের কাছ থেকে এই ব্যাপারে দফায় দফায় লিখিত মতামত নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, কানাডার নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনকে পদ্মাসেতু প্রকল্পের কিছু কাজ পাইয়ে দিতে বাংলাদেশ সরকারের উর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার যড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের অনুরোধে রয়্যাল কানাডীয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) বিস্তারিত তদন্ত করে এবং এসএনসি লাভালিনের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হলে বাংলাদেশি কানাডীয়ান ব্যবসায়ী জুলফিকার ভূইয়ার আইনজীবী বিশ্বব্যাংকের কাছে থাকা প্রমান আদালতে উপস্থাপনের আবেদন জানান। ‘আন্তর্জাতিক আইনে বিশ্বব্যাংককে যে কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া থেকে দায়মুক্তি দিয়েছে’ বলে যুক্তি তুলে বিশ্বব্যাংক অন্টারিওর আদালতে হাজির হতে অস্বীকার করে। পরে আদালত প্রমানপত্র জমা দিতে নির্দেশ দেন।
আগামী ৬ নভেম্বর শুরু হওয়ার পর শুনানি কতোদিন চলতে পারে তা জানা যায়নি। মামলাটি নিয়ে কানাডার আইনজীবীসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কানাডার আইনজীবীদের সংগঠন ক্রিমিনাল ল ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব অন্টারিও ইতিমধ্যে মামলায় পক্ষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা বিশ্বব্যাংকের এখতিয়ারের প্রশ্নে এই মামলা একটি নতুন ধারার আইনি সীমানা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন আইনজীবীরা।






