একবছর আগে নৌকা বাইচ দেখতে গিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী তাহিদুল ইসলাম নূরনবী খুন হয়েছে বলে জানিয়েছে এলিট ফোর্স র্যাব।
সোমবার ঢাকার সেনানিবাসে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল)’র একটি এটিএম বুথ থেকে নিরাপত্তাকর্মী নূরনবীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে রাসেল শেখকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন রাসেল।
বুধবার দুপুরে কারওয়ানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মনজুর মেহেদী ইসলাম।
মেজর মনজুর বলেন, গত বছরের জুলাইতে বাগেরহাটের একটি নৌকাবাইচ অনুষ্ঠান দেখতে যান ভিকটিম নূরনবী এবং আসামি রাসেল। ওই সময় অসাবধানতাবসত রাসেলের সাইকেল তাহিদুলের গায়ে লেগে যায় এবং তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে নৌকাবাইচ থেকে ফেরার পথে রাসেলকে মারধর করেন নূরনবী ।
ঘটনার দিনের বিবরণে মেজর মনজুর বলেন, ২০ মে রাতে নূরনবী ওই বুথে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাসেল ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় লোক নিয়োগের পোস্টারিং করতেন। তারপর রাতে ইবিএল’র ওই বুথে গিয়ে নূরনবীকে দেখে রাসেল ক্ষিপ্ত হন।
গতবছরের কথা মনে করিয়ে দিলে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এরপর তাদের মধ্যে হাতাহাতির এক পর্যায়ে ভোর আনুমানিক ৪ টার দিকে রাসেল ছুরি দিয়ে নূরনবীর গলায় জখম করে।
নূরনবীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর রাসেল এটিএম বুথের লাইট বন্ধ করে ছুরিটি পাশের ড্রেনে ফেলে দেয় এবং সে খুলনা পালিয়ে যায়।
রাসেল ছুরি কোথায় পেয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে মেজর মনজুর জানান, এটিএম বুথের নিরাপত্তা কর্মীরা যেহেতু বুথেই থাকতো, সেহেতু বিভিন্ন কাটাকাটির কাজে ব্যবহারের জন্য ছুরিটি সম্ভবতো সেখানেই ছিলো।
তাহিদুল গত ১ মে থেকে ‘গ্লোব সিকিউরিটি সার্ভিস’ একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের অধীনে সেনানীবাসের ইবিএল বুথে নিরাপত্তা কর্মীর কাজ শুরু করেন।
গত এপ্রিল থেকে রাসেলও গ্লোব সিকিউরিটি সার্ভিসে চাকরিরত ছিলেন। পরে গত ৯ মে আইকন ফর সিকিউরিটি সার্ভিসে রিক্রুটিং এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন।







