করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে নানান গুজব আর আতঙ্কের মধ্যে নতুন শঙ্কার কথা জানিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, কাগজের তৈরি নোংরা ব্যাংক নোট থেকেও ছড়াতে পারে করোনা ভাইরাস।
সম্প্রতি জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্থার পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে মানুষকে বিকল্প নোট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘করোনার সংক্রমণ এড়াতে মানুষের উচিত কাগজের নোটের বদলে যতটা সম্ভব যোগাযোগাবিহীন প্রযুক্তি বা কন্টাক্টলেস টেকনোলজি ব্যবহার করা।’
সংস্থাটি আরও বলছে, ব্যাংক নোট স্পর্শ করার পর লোকজনকে ভালোভাবে হাত ধোঁয়া উচিত। কারণ এসব নোটে কয়েকদিন পর্যন্ত মানবদেহে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের উপাদান থাকতে পারে।
যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক অব ইংল্যান্ড’ স্বীকার করেছে কাগজের নোটগুলো ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস বহন করতে পারে।
করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দিনে অন্তত দুইবার স্মার্টফোনের স্ক্রিন পরিষ্কারের অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়াও ব্যাংকের ডেভিড বা ক্রেডিট কার্ডও পরিস্কার রাখার অনুরোধ জানিয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। এতে করে কার্ডগুলোতে জমে থাকা জীবাণু মেরে ফেলা সহজ হবে।
এরই মধ্যে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত ব্যাংক নোটের জীবাণুনাশে উদ্যোগী হয় ব্যাংকটি। আক্রান্ত রোগীদের আলাদা রাখার পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত ব্যাংক নোটগুলোও বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়।
জীবাণুনাশের জন্য অতি বেগুনী আলো বা উচ্চ তাপমাত্রা ব্যবহার করে ১৪ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণের পর এসব নোট ফের বাজারে ছাড়া হয়।
বিশ্বব্যাপী নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ২০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে চীনে মারা গেছে ২ হাজার ৯৮১ জন।
এতে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৩ হাজার ১৫৮। যার মধ্যে শুধু চীনেই আক্রান্ত হয়েছে ৮০ হাজার ২৭০। চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা দক্ষিণ কোরিয়ায়। সেদেশে ৫ হাজার ৩২৮ জন আক্রান্ত হয়েছে।
এরই মধ্যে বিশ্বের ৮০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। আশার কথা এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ৬৯১ জন সুস্থ হয়েছে।








