ভূমিকম্পে আহতদের চিকিৎসা সেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে নেপালের স্বাস্থ্য বিভাগকে। একদিকে চিকিৎসকের অভাব, অন্যদিকে নেই প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম। এই অবস্থায় কেউ কাতরাচ্ছেন ভ্রামম্যাণ হাসপাতালের বিছানায় আবার কেউ বা খোলা আকাশের নিচে ছোট্ট তাঁবুতে।
ধ্বংস স্তুপ থেকে উদ্ধার হয়ে যারা চিকিৎসা নিয়েছেন তাদের আবারো আসতে হচ্ছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। আঘাত পাওয়া পায়ে আবারো আঘাত নিয়ে আসছেন ললিতপুরের বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। চিকিৎসা নিতে আসা এমন রোগীদের মধ্যে ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধ প্রায়ই অচেতন হয়ে পড়ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশী মেডিকেল টিমের চিকিৎসকরা বলেন, নেপালে আহতদের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। তাদের নিজেদের চিকিৎসক নেই সেখানে। বাংলাদেশী চিকিৎসকরাই প্রথম সেবাকর্ম শুরু করেছেন সেখানে।
কাঠমান্ডুর এই হাসাপালে এখন আর আহতদের রাখা জায়গা নেই। যারা ভর্তি হয়েছেন তাদের কতো দিন থাকতে হবে তাও বলতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
স্বজনরা বলছেন, খুব একটা ভালো নেই তারা। বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ খাবার পানি নেই। অনেক কষ্ট হচ্ছে তাদের। এর মধ্যে যারা আহত হয়েছে তাদের অবস্থা আরো ভয়াবহ। কারণ চিকিৎসাও পাচ্ছেনা ঠিকমতো।
তাঁবুর নিচে আশ্রয় নেয়া গৃহহীনরা বলেন, খাওয়ার জন্য ভাত নেই তাদের। একদিকে পেটের কষ্ট, অন্যদিকে তাদের স্বজনরা ঠিকমত চিকিৎসা পাচ্ছেনা।
নেপাল সরকার বলছেন ৭৫টি জেলার মধ্যে ৩৩টি জেলাতেই আঘাত হেনেছে ভূমিকম্প। আহত হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। কিন্তু এত মানুষের চিকিৎসা দেওয়ার মতো সাবলম্বী নয় সরকার।
৮০ বছরের ইতিহাসে এমন দুর্যোগ আর কখনো নেমে আসেনি নেপালে। চারদিকেই শুধু ধ্বংসস্তূপ। ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা নেপালে ভূমিকম্পের আঘাত তাদের সব শেষ করে দিয়েছে। উচ্চবিত্ত আর মধ্যবিত্তরাও পথে বসেছেন। নেপালীরা বলছেন, এরই মধ্যে ভয়াবহ পানি সংকটে পড়েছেন তারা। সব চেয়ে কষ্ট হচ্ছে নারী আর শিশুদের।






