সেই সময়ের আলোচিত দলবদল ছিল নেইমারের বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া। বিখ্যাত ক্লাবে সময়ের অন্যতম তারকার আগমন আর মোটা অঙ্কের চুক্তি, সব মিলিয়ে উত্তপ্ত ছিল আলোচনা। কয়েক বছর পর সেই চুক্তিই এখন কাঠগড়ায় টেনে নিচ্ছে দুপক্ষকে। ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোস থেকে নেইমারের ন্যু ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে বার্সা ও সেলেসাও তারকার বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাওয়ার আদেশ দিয়েছেন স্পেনের উচ্চ আদালত। অবশ্য শুরু থেকেই কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে দুপক্ষ।
গত নভেম্বরে স্পেনের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি নেইমার ও বার্সেলোনার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। সেখানে ২৫ বর্ষী ফরোয়ার্ডের দুই বছরের কারাদণ্ড চাওয়া হয়। সঙ্গে কাতালান ক্লাবটির সাবেক সভাপতি সান্দ্রো রোসেলের পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করা হয়। আর বার্সার বিরুদ্ধে ৮৪ লাখ ইউরো জরিমানার শাস্তি চেয়েছিলেন কৌঁসুলি।
স্প্যানিশ আদালত কৌঁসুলির আবেদন গ্রহণ করলে তার বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন নেইমার ও বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ। দেশটির উচ্চ আদালত সেই আপিলই খারিজ করে মামলা চালিয়ে যাওয়ার আদেশ দিলেন। এবার অভিযুক্ত পক্ষ উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলও করতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত এসেছে। ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোস, নেইমারের মা-বাবার অভিযুক্ত কোম্পানিকেও মামলা লড়ে যেতে হবে। যাতে সান্তোসকে গুণতে হতে পারে ৬৫ লাখ ইউরোর জরিমানা।
২০১৩ সালে নেইমার যখন সান্তোস থেকে বার্সায় আসেন তখনকার সভাপতি সান্দ্রো রোসেল জানিয়েছিলেন, চুক্তির অঙ্কটা ৫ কোটি ৭১ লাখ ইউরোর। পরে কাতালান ক্লাবটি স্বীকার করে যে, নানা আনুষঙ্গিক চুক্তির কারণে নেইমারকে কেনার অর্থ পরিমাণটা শেষ অবধি ১০ কোটি ইউরোর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
এরপরই নেইমারের ক্রীড়া স্বত্বের ৪০ শতাংশের মালিকানা থাকা ব্রাজিলের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ডিআইএস তাদেরকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে। পরে বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতের নজরে আনেন স্পেনের কৌঁসুলিরা। যার জের টানতে হবে সামনের কিছুদিন।
অবশ্য অভিযোগ প্রমাণিত হলেও নেইমারকে জেলে যেতে হবে না। স্প্যানিশ আইনে সহিংস অপরাধে না জড়ালে বা দুই বছরের কম সাজা হলে কাউকে জেলের ঘানি টানতে হয় না। বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ নেইমারের কর ফাঁকি ঝামেলার আপসরফা করতে ৫৫ লাখ ইউরো জরিমানা দিতে রাজি। সেটিও বিবেচনায় থাকতে পারে।
সামনের পরিস্থিতি যাই আসুক, নেইমার দুঃসময় সামলাতে বার্সা সতীর্থ লিওনেল মেসির দ্বারস্থ হতে পারেন। কেননা, গত জুলাইয়ে কর ফাঁকির অভিযোগে মেসি ও তার বাবার বিরুদ্ধে ২১ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন স্পেনের একটি আদালত। অভিযোগ ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪১ লাখ ইউরো কর ফাঁকি দেওয়ার। দুঃসময়টা কিভাবে সামলাতে হবে, বন্ধু নেইমারকে মেসির থেকে সেটা কেইবা বেশি বোঝাতে পারবেন!








