জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ জিতেছেন। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তাই ফুরফুরে মেজাজেই আসার কথা নেইমারের। ব্রাজিলিয়ান তারকা এলেন, কথাও বললেন মনখুলে, কিন্তু কণ্ঠে থাকল না খুশির কোন আভাস। নেইমারের কথায় বরং মিশে থাকল আবেগ, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চোখ বেয়ে নামল অশ্রুও!
শুক্রবার জাপানের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলকে গোল এনে দেন নেইমার। পরে অবশ্য আরেকটি পেনাল্টি পেয়েও তা থেকে গোল করতে ব্যর্থ সেলেসাও ফরোয়ার্ড। তাতে দলের ক্ষতি হয়নি, হেসে খেলেই ব্লু সামুরাইদের বিপক্ষে জিতেছে পাঁচবারের বিশ্বসেরারা।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে আসেন ব্রাজিল কোচ টিটে। পরে ডেকে নেন নেইমারকেও। সেখানেই তাকে ঘিরে ফরাসী গণমাধ্যমগুলোতে আসা একাধিক মশলাযুক্ত খবর নিয়ে মুখ খোলেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবলার।
কাভানি, পিএসজি কোচ উনাই এমেরির সঙ্গে দ্বন্দ্ব। ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সঙ্গে শীতল সম্পর্ক, সব বিষয়েই কথা বলেন নেইমার। কাভানি কিংবা কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্বের খবরকে গুজব বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন। এক পর্যায়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান ওয়ান্ডার কিড।
‘তারা আমাকে নিয়ে এমন সব গল্প বানিয়েছে যেগুলোর সত্যিই কোন ভিত্তি নেই। আমার সঙ্গে কোচ কিংবা কাভানির কোন সংঘাত নেই। প্যারিসে আমি অনেক, অনেক সুখী। পিএসজি এবং যারা দলটির হয়ে সর্বস্ব দিয়ে খেলছে, তাদের জন্য হলেও আমি কিছু জিততে চাই।’
পিএসজি কোচ এমেরির সঙ্গে দ্বন্দ্বের কথাও উড়িয়ে দিয়েছেন নেইমার। এমেরির সঙ্গে তার ভাল বোঝাপড়ার কথা তুলে এনেছেন ভরাট কণ্ঠে, ‘আমি যখন প্যারিসে নামি, তখন তার সঙ্গে আমার আলোচনা হয়। তিনি আমাকে মাঠে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমি আমার করণীয় সম্পর্কে জানি এবং কোচ যেটা বলেন সেটাই করার চেষ্টা করি। তারপরও জানি না কীভাবে এসব গল্প আবিষ্কার হয়!’

নেইমারের সমর্থনে মুখ খুলেছেন টিটেও। প্রিয় শিষ্য কোন ভুল করতে পারেন না বলেও বিশ্বাস তার, ‘আমরা প্রায় দেড় বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করেছি। আমি শুনতে শুনতে বিরক্ত যে নেইমারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খারাপ, নেইমার রগচটা, সে কথা শোনে না, ড্রেসিং রুমে প্রভাব খাটাতে চায়, ইত্যাদি, ইত্যাদি।’
‘আমরা মানুষ, আমরা কেউ দোষত্রুটির ঊর্ধ্বে নই। কখনো কখনো হয়ত ভুল পথেই হাঁটি। এমন অনেক ঘটনাই চাইলে বলা যায়। আপনারা যদি নেইমারের বিষয়ে বলেন, তাহলে বলবো তার অসাধারণ একটি মন আছে। সে অসাধারণ একজন মানুষ।’ যোগ করেন ব্রাজিল কোচ।








