নেইমারকে পেতে বার্সেলোনার বেঁধে দেয়া ২২২ মিলিয়ন ইউরো বা ১৯৬ মিলিয়ন পাউন্ড দিতে রাজী পিএসজি। বাংলাদেশি মূল্যে যা প্রায় ২০৬০ কোটি টাকা! একজন ফুটবলার কিনতে এত টাকা! সবচেয়ে বড় বিষয় নেইমারকে পেতে পিএসজির এই অর্থায়নটা হবে কোথা থেকে?
পেট্রো ডলারের ঝনঝনানিতে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে পেতে খুব বেশি বেগ পাওয়ার কথা নয় ফরাসি ক্লাবটির। বিবিসি বের করার চেষ্টা করেছে কীভাবে হতে পারে এই চুক্তি, কীভাবে বার্সেলোনাকে নেইমারের মূল্য পরিশোধ করবে পিএসজি এবং তাদের লাভটাই বা কী।
মূল্য পরিশোধ হতে পারে কিস্তিতে
২২২ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কিনে নেইমারের সঙ্গে ৩-৪ বছরের চুক্তিতে আসতে চাইবে না পিএসজি। চুক্তিটি হতে পারে ৫ থেকে ১০ বছরের। সেক্ষেত্রে বার্সাকে কিস্তিতে পাওনা টাকা পরিশোধ করার সুযোগ পাবে পিএসজি।
শেফিল্ড হালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ ড. রব উইলসনের মতে, এভাবে না এগোলে আর্থিক বিপর্যয়ে পড়তে হবে পিএসজিকে। তার ভাষায়, ‘ধরুন, নেইমারকে ২০০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কিনে ১০ বছরের জন্য চুক্তিতে আসলো পিএসজি। সেক্ষেত্রে প্রতি বছর ২০ মিলিয়ন ইউরো বার্সাকে পরিশোধ করবে ক্লাবটি। আর বিক্রেতা হিসেবে বার্সাকেও এই চুক্তিতে আসতে হবে। আর নেইমার এই মূল্যের যোগ্য একজন খেলোয়াড়।’
পিএসজি এত টাকা ওঠাবে কীভাবে?
ড. রব উইলসনের মতে, নেইমারের গ্রহণযোগ্যতা এবং বাজারমূল্যই পিএসজির বিনিয়োগকৃত অর্থ উঠিয়ে নিয়ে আসতে সাহায্য করবে। বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হতে পারলে তার দিকেই সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি থাকবে ফুটবল বিশ্বের। নেইমারের জার্সি বিক্রি করেও বিশাল অর্থ ফেরত আসতে পারে।
নেইমার এবং পিএসজির জার্সির স্পন্সর নাইকি হওয়ায় এই কাজটা আরও সহজ হয়ে যাবে বলে মত উইলসনের। নাইকির পূর্ব চুক্তিতে ২৪ মিলিয়ন ইউরো করে পাচ্ছে পিএসজি। ব্রাজিলিয়ান তারকা ক্লাবে আসলে সেই চুক্তি আরও বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ থাকবে ফরাসি জায়ান্টদের সামনে।
অন্যদিকে নেইমারের জার্সি বিক্রি করে ফুলে ফেঁপে উঠতে পারে নাইকির ব্যবসাও। ‘নিরাপদে অর্থ তুলে আনার নিশ্চয়তা না পেলে আপনি একজন খেলোয়াড়কে কিনতে পারেন না। খেলোয়াড় এবং দল সমান সাফল্য না পেলে লাভের মুখ দেখা যাবে না। নেইমার যে ধরনের ফুটবলার তাতে তার পেছনে এত অর্থ ব্যয় করা যেতেই পারে।’ -উইলসনের এই যুক্তিটা পিএসজির পক্ষেই যাচ্ছে।
আর্থিক ফেয়ার প্লে নিশ্চিত হবে তো?
খেলোয়াড় কেনা-বেচার সময় বেশি দামে খেলোয়াড় কেনার কারণে যাতে আর্থিক ভারসাম্য নষ্ট না হয় সেজন্যই আর্থিক ফেয়ার প্লে নিয়মের আবির্ভাব। ম্যানচেস্টার সিটি, মোনাকো, ইন্টার মিলানের মত দলকে বেশি দামে খেলোয়াড় কেনা-বেচার কারণে জরিমানা গুনতে হয়েছে। ২০১৪ সালে পিএসজিকেও একই অভিযোগে শাস্তি পেতে হয়েছে। তাই নেইমারকে এত দামে কিনতে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দলটি।
এখানেও উইলসন বাতলে দিয়েছেন একটি উপায়, ‘নেইমারকে কিনতে গিয়ে ক্ষতির মুখে যেন পড়তে না হয় সেটাও খেয়াল করতে হবে। ফেয়ার প্লে নিয়মটাও কিন্তু মাথায় রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে কয়েকজন ফুটবলারকে মিলিয়ে কাছাকাছি দামে বিক্রি করে দিলেই কিন্তু একটা ভারসাম্য তৈরি হতে পারে।’








