নারী সাংবাদিকতার পথিকৃত এবং ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নারী সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম’ এর সম্পাদক নূরজাহান বেগমের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন সংগঠন। সোমবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সংগ্রামে, অর্জনে অনুকরণীয় এই মহিয়সী নারী।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নূরজাহান বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি তার শোকবাণীতে বলেন, নারী শিক্ষা ও নারী উন্নয়নে নূরজাহান বেগমের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তার মৃত্যু জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। নূরজাহান বেগমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
উপমহাদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত নুরজাহান বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃক্ষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর মৃত্যুতে জাতি আজ এক মহিয়সী নারীকে হারালো। উপমহাদেশের নারী জাগরণে যিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। শোকবাণীতে তিনি মরহুমার শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন এক শোকবার্তায় বলেন, নূরজাহান বেগম সকল প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হবেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশবাসীর ন্যায় আমিও গভীরভাবে সমব্যথী। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারবর্গ, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
এক শোক বার্তায় বাংলাদেশের উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি কামাল লোহানী ও প্রবীর সরদার বলেন, কিংবদন্তি এ সাংবাদিকের মৃত্যুতে এ উপমহাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তারা।

গেরিলা ১৯৭১ কমিউনিটি ফেসবুক পেজে নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত এবং সাহিত্যিক নূরজাহান বেগমের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে লিখে, উপমহাদেশের প্রথম নারী সাপ্তাহিক “বেগম” -এর সূচনালগ্ন থেকে, ছয় দশক ধরে বেগম পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর মতো মানুষের মৃত্যু’র শূন্যতা পূরণের নয়। তাঁকে ধারণ করতে পারে এমন বাক্য লেখার ক্ষমতা আমাদের নেই।বাংলাদেশের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে আজ।
নারীর অবস্থার উন্নয়ন ও সাহিত্যক্ষেত্রে অবদানের জন্য নূরজাহান বেগম বহু পদক ও সম্মাননা পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৯৬ সালে ‘নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠ চক্র’-এর সন্মাননা, ১৯৯৭ সালে রোকেয়া পদক, ১৯৯৯ সালে গেন্ডারিয়া মহিলা সমিতি থেকে শুভেচ্ছা ক্রেস্ট, ২০০২ সালে অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার, ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক নারী সংগঠন ইনার হুইল ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮ সম্মাননা ইত্যাদি। এছাড়াও বাংলাদেশ মহিলা সমিতিসহ অনেক সংগঠন থেকে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন।








